মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স

0 16,593

উড়ছেন এমবাপে, উড়ছে ফ্রান্স। আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। সেমিফাইনালে দারুণ জমজমাট লড়াই শেষে আফ্রিকার সিংহ মরক্কোকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো ফ্রান্স।

২০১৮ বিশ্বকাপ যেখান থেকে শুরু করেছিল সেখান থেকেই যেন এই বিশ্বকাপ শুরু করেন এমবাপেরা। দুর্দান্ত খেলেই আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিলো ফ্রান্স। অথচ পুরো ম্যাচেই দাপট দেখিয়ে খেলেছে মরক্কো।

ফেবারিটের তকমা লাগিয়ে বিশ্বকাপে আসা ফ্রান্স শুরুটাও করে স্বপ্নের মতো। থিও হার্নান্দেজের বা পায়ের দারুণ শটে ম্যাচের ৫ মিনিটের মাথায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষ ফুটবলারের কাছ থেকে গোল হজম করলো মরক্কো।

এক গোল খেলেও দারুণভাবে খেলতে থাকে মরক্কো। ১১ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে উনাহির দূরপাল্লার শট বা পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন ফ্রেঞ্চ গোলরক্ষক হুগো লরিস।

১৮ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ পায় মরক্কো। বৌফালের পাস থেকে ডি বক্সে বল পেলেও বা পায়ের দুর্বল শটে গোল করতে ব্যর্থ হন জিয়েচ।

এর ঠিক এক মিনিট পর সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্সও। ডি বক্সের ভেতর গোলরক্ষককে একা পেয়ে বা পায়ে শট নেন জিরুড। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বারে লেগে বল চলে যায় বাইরে।

৩৬ মিনিটে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাকে মরক্কোর রক্ষণভাগে ভয় ধরিয়ে দেন এমবাপে ও জিরুড। এমবাপের পেসের কাছে পরাস্ত হন মরক্কোর ডিফেন্ডার।

ফলে এমবাপের দুর্বল শট ক্লিয়ার করেন মরক্কোর ডিফেন্ডার। কিন্তু ফোফানার পাস থেকে দারুণভাবে একা বল পেয়ে গোলবারের বাইরে শট নেন জিরুড।

৪১ মিনিটে গ্রিজম্যানের কর্নার থেকে ভারানের ডান পায়ের শট আবারও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাইরে চলে যায়। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পায় মরক্কো। কিন্তু এল ইয়ামিকের ওভার হেড কিক গোলবারে লেগে প্রতিহত হয়, ফলে গোলবঞ্চিত হয় মরক্কো।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আরও আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে মরক্কো। ৫৫ মিনিটে ফ্রেঞ্চ রক্ষণভাগে ভয় ধরিয়ে দেন মরক্কোর ফুটবলাররা। বৌফাল, এল নাসিরের দুই প্রচেষ্টা রুখে দেন ভারান ও থিও হার্নান্দেজ।

পুরো ম্যাচে দারুণভাবে বল দখলে নিয়ে খেলতে থাকে মরক্কো। কিন্তু আক্রমণভাগে গিয়েই যেন খেই হারিয়ে ফেলছিল তাদের ফুটবলাররা।

মরক্কোর ভুলের খেসারত দিতে হয় ৮০ মিনিটে। দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে এমবাপের একক নৈপুণ্যে ডিবক্সের ভেতর শট নিলে সেট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে যায় কোলো মুয়ানির কাছে৷ এমন সুযোগ আর তিনি মিস করেননি। বদলি হিসেবে নামার দুই মিনিটের ভেতরেই ফ্রান্সের জার্সি গায়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি।

দুই গোলে পিছিয়ে থেকে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি মরক্কো। ৯২ মিনিটে ডিবক্সের বাইরে থেকে মরক্কোর উনাহির শট চলে যায় গোলবারের ওপর দিয়ে। শেষদিকে আরও কয়েকবার ফ্রান্স আক্রমণভাগে বল নিয়ে ঢুকলেও ফিনিশিংটাই করতে পারেনি ফ্রান্স। ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো আফ্রিকান প্রতিনিধি মরক্কোকে।

আরআর/ jn

Leave A Reply

Your email address will not be published.