কাতার বিশ্বকাপের আগে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা হয়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। কোনো ধরনের ছুটি ছাড়াই তিন বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন এসব শ্রমিক। অসুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিতে না পারলে বেতন কাটার পাশাপাশি দেওয়া হয় শাস্তিও। সাবেক-বর্তমান ৩৪ কর্মীর সঙ্গে কথা বলে এ ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে অ্যামনেস্টি।

0 7,026

দরজায় কড়া নাড়ছে কাতার বিশ্বকাপ। নানা সমালোচনা, বিতর্ক পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি প্রস্তুত বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্ট আয়োজনে। তবে মাস কয়েক বাকি থাকতেই চাঞ্চল্যকর এক তথ্য সামনে এনেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

বিশ্বকাপ আয়োজনে সেখানকার অভিবাসী শ্রমিকদের জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ এই সংস্থার। দৈনিক ১২ ঘণ্টা এবং কোনো ধরনের সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াই বছরের পর বছর কাজ করায় বাধ্য করা হয়েছে তাদের। বাংলাদেশিসহ শ্রমিকদের অধিকাংশই এশিয়া ও আফ্রিকার নাগরিক।

দেশটির শ্রম আইন অনুযায়ী, দৈনিক সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা কাজের পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত এক দিনের ছুটি দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে বেসরকারি শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এসব আইন অমান্য করেই কাজে বাধ্য করে শ্রমিকদের।

অ্যামনেস্টিকে আব্দুল নামের এক বাংলাদেশি শ্রমিক জানিয়েছেন, তিন বছর ধরে কোনো ধরনের ছুটি ছাড়াই দৈনিক ১২ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে তাকে। আইন পরিপন্থি জানলেও আর্থিক শাস্তির কথা বিবেচনায় এনে কোনো ধরনের প্রতিবাদের সুযোগ থাকে না তাদের। অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে কাজে যোগ দিতে না পারলে মজুরি কেটে নেওয়ার পাশপাশি, ঝুঁকি থাকে চাকরি খোয়ানোর। পাশাপাশি ওই প্রতিবেদনে ভাষা, জাতীয়তা ও বর্ণবৈষম্যের অভিযোগও সামনে আনা হয়েছে।

অবশ্য কাতারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার পর থেকে দেশটিতে ছয় হাজারের বেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

অর্থাৎ, শেষ ১২ বছরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১২ জন শ্রমিক মারা গেছেন। যদিও শঙ্কা করা হয়, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। এর আগে বিশ্বকাপ আয়োজক নির্বাচন নিয়ে, ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগও সামনে আসে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.