বিশ্বকাপে মেসি ছাড়াও পেনাল্টি মিসের মাশুল দিয়েছিলেন যারা

রাশিয়া বিশ্বকাপে একবার পেনাল্টি মিস করে দেশকে ‘ঝুঁকির’ মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসে। অনুরাগীদের মনের জ্বালা মেটার আগেই শুরু হয়ে যায় সমালোচনা। এমন পেনাল্টি মিস করে কীভাবে! কিন্তু বিশ্বকাপের লড়াইয়ে পেনাল্টি মিস করার তালিকায় মেসির মতো বেশ কিছু ফুটবলারারে নামও রয়েছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপের ইতিহাসে আলোচিত ৫টি পেনাল্টি মিসের ঘটনা।

0 15,732

ফুটবল খেলায় পেনাল্টিগুলো শুধু মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের জন্যই নয়, ভক্ত-দর্শকদের জন্যও স্নায়ুচাপ তৈরি করে। তার উপর যদি বিশ্বকাপের মতো খেলায় হয়, তবে তো কথাই নেই! বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পেনাল্টি মিস করেছেন অনেক সেরা খেলোয়াড়। এ তালিকায় রয়েছে- লিওনেল মেসি, জিকো, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড এবং স্টিভেন জেরার্ডের মতো বড় বড় নাম। যে পেনাল্টি মিসগুলো ভক্তদের মেনে নিতে কষ্টই হয়।

জিকো
ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ না জেতা সেরা খেলোয়াড়দের একজন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিকো। ১৯৮২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফের বিদায় নেয়। ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে টাই হয় এবং লে ব্লুরা শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে এটি জিতেছিল। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা জিকো একটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন। সেটি না হলে সেলেসাওদের ভাগ্যে হয়তো অন্য ইতিহাস হতে পারতো।

রবের্তো বাজ্জো

ইতালিয়ান গ্রেট রবের্তো বাজ্জো ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে শুটআউটে পেনাল্টি মিস করেন। এর আগে আরেক ইতালীয় কিংবদন্তি ফ্রাঙ্কো বারেসিও পেনাল্টি মিস করেন। সেই আসরের ফাইনালে ক্যালিফোর্নিয়ায় মুখোমুখি হয় ইতালি ও ব্রাজিল। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য থাকলেও, পেনাল্টি শুটআউটে শিরোপা জয় করে সেলেসাওরা। যাই হোক, পেনাল্টি মিস করার সময় বাজ্জোকে অসহায় দেখাচ্ছিল। আর এমন চিত্রই ফুটবল সমর্থকদের হৃদয় কেড়ে নেয় এবং বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি স্থায়ী মুহূর্ত হয়ে উঠে।

ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, স্টিভেন জেরার্ড এবং জেমি ক্যারাঘার

ইংল্যান্ডের সোনালি প্রজন্ম হিসেবে বিবেচিত দলটি ২০০৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের অগ্রসর হতে ব্যর্থ হয়। কারণ তারা পেনাল্টি শুটআউটে পর্তুগালের বিপক্ষে হেরে যায়। ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, স্টিভেন জেরার্ড এবং জেমি ক্যারাঘারের মতো তারকারা তাদের স্পট-কিকে ব্যর্থ হন। ইংলিশরা তাদের চারটি পেনাল্টির মধ্যে তিনটিতেই ব্যর্থ হযন। একমাত্র ইংলিশ তারকা ওয়েন হারগ্রিভস গোল করেছিলেন। শুটআউটে পর্তুগাল জিতেছিল ৩-১ গোলে।

ডেভিড ট্রেজেগুয়েট

ইউরো ২০০০ চ্যাম্পিয়নশিপে ফ্রান্সের নায়ক ছিলেন ডেভিড ট্রেজেগুয়েট। তিনি ইতালির বিপক্ষে ফাইনালে গোল করে তাদের শিরোপা এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে লে ব্লুদের হয়ে ভিলেন হয়েছিলেন। শুটআউটে ট্রেজেগুয়েট একমাত্র পেনাল্টি মিস করেন। এর ফলে ইতালি তাদের প্রতিশোধ নেয় এবং তাদের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয়।

মেসি

বিশ্ব মঞ্চে পেনাল্টি মিস করেন লিওনেল মেসিও। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচে স্পট-কিকে ব্যর্থ হন। ফলে আইসল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ল্যাতিনরা। এ পেনাল্টি মিসের কারণে তাদেরকে নক-আউটে যেতে হতে পারত, যদি তাদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নাইজেরার বিপক্ষে মার্কোস গোল না করতেন। মেসি-মার্কোসের গোলে নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রাউন্ড অফ ১৬-এ উঠে আর্জেন্টিনা, যা আফ্রিকান দলের চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি। মেসি যদি স্পট-কিকে ব্যর্থ না হতেন, তাবে আর্জেন্টিনার জন্য এটি একটি ভিন্ন গল্প হতে পারত।

সূত্র: গোল ডটকম

Leave A Reply

Your email address will not be published.