কাতার বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা জার্মান ফুটবলারের

জার্মানির হয়ে চতুর্থ ফিফা বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ফিলিপ লাম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কাতার বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ জার্মানদের হয়ে মাঠে নামবেন না তিনি। ২০১৪ সালে অবসরে যাওয়া এ ফুটবলার মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে মাঠের দর্শক হতেও রাজি নন।

0 9,822

ছবি: সংগৃহীত

কাতার নিজ দেশে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের অনুমতি পায় ২০১০ সালে। এরপর অতি দ্রুততার সঙ্গে তারা স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়। করোনা মহামারির মধ্যেও যখন সবকিছু থমকে ছিল, তখনো বন্ধ ছিল না কাতারের স্টেডিয়াম নির্মাণকাজ। যেখানে অভিযোগ ওঠে, শ্রমিকদের অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য করে কর্তৃপক্ষ।

দ্য গার্ডিয়ান ২০২১ সালে তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, স্টেডিয়াম তৈরি করতে গিয়ে দেশটিতে অন্তত সাড়ে ছয় হাজার শ্রমিক মারা গেছেন। এর মধ্যে সরাসরি স্টেডিয়াম নির্মাণকাজে অংশ নেয়া ১২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বাকস্বাধীনতা হরণ করতে দেশটি আগের চেয়েও কড়া হয়েছে। আবার স্টেডিয়াম নির্মাণকাজ শেষে প্রায় ৪৮ হাজার শ্রমিককে করা হয়েছে ছাঁটাই। এসব অভিযোগে কাতারকে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যে কারণে কাতার বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন জার্মান বিশ্বকাপজয়ী তারকা।

জার্মান সংবাদমাধ্যম কিকারকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ফিফার প্রতিনিধি বা দর্শক হিসেবে আমি কাতারে যাব না। বিশ্বকাপ ঘরে বসে দেখব। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট কোনো দেশকে দেয়ার আগে তাদের মানবাধিকারের বিষয়টি অবশ্যই দেখা উচিত। মানবাধিকারে সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স করা কাউকে বিশ্বকাপ উপহার দেয়া হলে অবশ্যই আপনার মনে বিশ্বকাপ প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে।’

৩৮ বছর বয়সী এ তারকা আরও যোগ করেন, ‘ভবিষ্যতে এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি উচিত হবে না। বিশ্বকাপের স্বত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে মানবাধিকার, স্থিতিশীলতা, দেশটির আকার গুরুত্বপূর্ণ। এর কোনো কিছুই মানা হয়েছে বলে মনে হয় না।’

জার্মানির হয়ে ১১৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়েছেন ফিলিপ লাম। যেখানে এ ফুলব্যাক গোলের দেখা পেয়েছেন ৫টি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.