১০৮ রানেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে দিল টাইগাররা

বাংলাদেশের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা। নাসুম-মিরাজদের তোপে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ক্যারিবীয়দের ব্যাটিং অর্ডার। গায়ানায় সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে স্বাগতিকরা অলআউট হয়ে গেছে মাত্র ১০৮ রানে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে তাদের সর্বনিম্ন সংগ্রহ ৬১ রান। ২০১১ সালে চট্টগ্রামে এমন রেকর্ড গড়েছিল তারা। এবার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানের লজ্জা গড়ল ক্যারিবীয়রা। এদিকে, এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করতে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ১০৯ রান।

0 9,991

প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলারদের তোপে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ম্যাচেও একই চিত্র। মিরাজের চার এবং নাসুম নিলেন তিনটি উইকেট। এ ছাড়া শরিফুল ও মোসাদ্দেক নিয়েছেন একটি করে উইকেট। বাকি একটি রানআউট।

স্বাগতিকদের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছিলেন তাসকিনের পরিবর্তে দলে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক সৈকত। ইনিংসের এগারোতম ওভারে দলীয় ২৭ রানের মাথায় ভাঙে স্বাগতিকদের উদ্বোধনী জুটি। ৩৬ বলে ১৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন কাইল মেয়ার্স। এরপর মাত্র ১৪ বলের ব্যবধানে তিন তিনটি উইকেট শিকার নাসুম আহমেদের।

শামারাহ ব্রুকসকে বোল্ড করে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের প্রথম উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন নাসুম। এরপর একে একে ফিরিয়েছেন শাই হোপ এবং নিকোলাস পুরানকে। ক্যারিবীয় টপ অর্ডারে রীতিমতো ধস নামিয়েছেন বাংলাদেশের এই স্পিনার।

আরও পড়ুন : নাসুমের তিন উইকেট, কাঁপছে ক্যারিবীয়রা

নাসুমের বল মিস করেছিলেন শামারাহ ব্রুকস। বলও খুঁজে পায় কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য- স্টাম্প। সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ক্যারিবীয় এ ব্যাটার করেছেন ১৩ বলে ৫ রান করে। ব্রুকসের পর শাই হোপকে ফেরান নাসুম। বেশ কয়েকবার জীবন পাওয়া হোপ স্লগ সুইপ করতে গিয়ে শর্ট মিডউইকেটে মোসাদ্দেকের বিশ্বস্ত হাতে ধরা পড়েন।

নাসুমের তৃতীয় শিকার উইন্ডিজ অধিনায়ক নিকোলাস পুরান। রিভার্স সুইপ করতে গিয়েছিলেন পুরান। তবে বলটি গিয়ে স্টাম্পে আঘাত হানে। নাসুমের পর উইকেটের দেখা পেয়েছেন পেসার শরিফুল এবং আগের ম্যাচের নায়ক মিরাজও।

শরিফুল ফিরিয়েছেন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান রভম্যান পাওয়েলকে। ১৯ বলে ১৩ রান করে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন এই ব্যাটার। শরিফুলের পরের ওভারেই জোড়া সাফল্য। ব্রেন্ডন কিংকে মাঠের বাইরে পাঠান মিরাজ। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়েছিলেন কিং। মিস করে গিয়ে হলেন বোল্ড। ৪৪ বল খেলে ১৩ রান করে ফিরলেন তিনি। পরের বলেই রানআউটের ফাঁদে পড়েন আকিল হোসাইন। ৭২ রানে সপ্তম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এরপর মিরাজের দখলে গেছে আরও আরও তিনটি উইকেট। রোমারিও শেফার্ড, আলজারি জোসেপের পর গুদাকেশ মোতিকে ফিরিয়ে উইন্ডিজ কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেছেন তিনি।

এর আগে প্রথম ওয়ানডের নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের দ্বিতীয় ম্যাচের শুরুটাও হতে পারতো স্বপ্নের মতো। উইকেট পেতে পারতেন ব্যক্তিগত প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই। ক্রিজ থেকে বেরিয়ে এসে মারতে গিয়ে বল মিস করেছিলেন হোপ। সোহানের নিশ্চিত সুযোগ ছিল বলটা গ্লাভসে নিয়ে স্টাম্পিংয়ের। তবে গ্লাভসবন্দি করতে পারেননি। বল ছাড়াই ভেঙেছেন স্টাম্প, ফলে হয়নি স্টাম্পিংও।

পরে আল্ট্রা-এজে দেখা গেছে, বল লেগেছিল হোপের ব্যাটের কানায়। সোহান ক্যাচটা তালুবন্দি করতে পারলে হোপ হতে পারতেন কট-বিহাইন্ড। ১ বলে দুইটি আউটের সুযোগই হারান টাইগার উইকেটকিপার, জীবন পান হোপ।

তাসকিনের জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া অফস্পিনার মোসাদ্দেককে দিয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু করেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এক চারে প্রথম ওভারে পাঁচ রান দেন মোসাদ্দেক। তবে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারটা ছিল ঘটনাবহুল। মুস্তাফিজের করা ওভারটিতে সম্ভাবনা জেগেছিল উদ্বোধনী জুটি ভাঙার। জোরাল আবেদনের পরও আম্পায়ার আউট দেননি। যদিও পরে দেখা গেছে, রিভিউ নিলে সেটি নষ্টই হতো। কাইল মায়ার্সের প্যাডে লাগার আগে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে গিয়েছিল মুস্তাফিজের বলটি।

এরপর আউটসাইড-এজড হয়েছিলেন মায়ার্স, তবে ক্যাচটি যায়নি উইকেটকিপারের গ্লাভস পর্যন্ত। শেষ বলে সিঙ্গেল চুরি করতে গিয়ে স্ট্রাইক প্রান্তে রান-আউট হতে ধরেছিলেন শাই হোপ। শান্ত সরাসরি স্টাম্প ভাঙতে পারলে ফিরেই যেতে হতো হোপকে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.