লোকসানের আশঙ্কায় এয়ারলাইনস খাত

করোনার সময় থেকেই বিশ্ববাজারে চলছিল তেলের সংকট। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে না হতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অনেকটা আগুনে ঘি ঢালার মতোই বাড়িয়ে দিয়েছে তেলের দাম। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হবে এয়ারলাইনস খাত। এতে সৃষ্টি হয়েছে লোকসানের আশঙ্কা।

0 15,930

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) আগের পূর্বাভাস বলছে, উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার লোকসান গুনতে পারে। তখন উড়োজাহাজ জ্বালানির দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলার। সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানি বাজারে আরো অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ১৪০ ডলারে ঠেলে দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান এ দাম মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর পুনরুদ্ধার ব্যাহত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আইএটিএর সাধারণ পরিচালক উইলি ওয়ালশ এক বিবৃতিতে জানান, কভিড-১৯ মহামারীতে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনেছিল উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো। মহমারীর ক্ষতি কাটিয়ে উঠে সবেমাত্র অর্থনীতি পুনরুদ্ধার শুরু করেছিল উড়োজাহাজ পরিবহন খাত। তবে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দামের ফলে তা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য।
 
এদিকে বিভিন্ন দেশের পর্যটনখাতগুলো এখনো পুরোপুরি খুলে না দেওয়ায়, বিমানগুলোতে যাত্রীসংখ্যা কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। আগের বছর একই সময়ের তুলনায় আকাশ ভ্রমণের চাহিদা ৮২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি হলেও গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় তা ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কম ছিল।
 

উইলি ওয়ালশ বলেন, ওমিক্রনের প্রকোপের ফলে উড়োজাহাজ পরিবহন খাত ব্যাহত হলেও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। মহামারীর কারণে সীমান্তে বিধিনিষেধ আরোপ হলেও ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে তার ভূমিকা সামান্য ছিল। বিভিন্ন দেশের সরকার এখন নতুন নীতি প্রণয়ন করছে। ভ্রমণ বিধিনিষেধের ফলে তা মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে এ বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে।
 
জানুয়ারিতে গত বছর একই সময়ের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর চাহিদা বেড়েছে ১৪৫ শতাংশ। উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর সক্ষমতাও একই সময়ের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু যুদ্ধের পরিস্থিতি আর জ্বালানি তেলের দামের ওপরে নির্ভর করছে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে সেটি।
Leave A Reply

Your email address will not be published.