লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস। দুজনের ওপেনিং জুটির নৈপুণ্যে জয় পায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

ডাগ আউটে অপেক্ষা করছিলেন মঈন আলী ও ফাফ ডু প্লেসি। তবে তাদের ব্যাট করার সুযোগই দেননি লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস। দুজনের ওপেনিং জুটির নৈপুণ্যে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে বৃষ্টি আইনে ৯ উইকেটের জয় পায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

0 9,740

শেষদিকে লিটন আউট হলেও দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন ইমরুল। ৬২ বলে খেলেন ৮১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। আর তাতেই ১৬.৩ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কুমিল্লা।

বৃহস্পতিবার ( ৩ ফেব্রুয়ারি) ১৪৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতেই ৪১ রান সংগ্রহ করে কুমিল্লার ব্যাটাররা। এদিন ওপেনিংয়ে লিটনের সঙ্গে মাঠে নামেন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। বিপিএলের চলতি আসরে আজই প্রথম ইমরুলকে ওপেনিংয়ে দেখা গেল। দুই টাইগার ওপেনার চট্টগ্রামের বোলারদের কোনো সুযোগই দেননি। তবে দুজন যে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাট করেছেন এমনও না। হাওয়ায় ভাসা অনেক বল নাগাল পাননি চট্টলার ফিল্ডাররা। ব্যাটের কানায় লেগে বেশ কিছু রান এসেছে উইকেটের পেছন থেকে। লিটন ব্যক্তিগত ৪৬ রানে জীবন পান। নাসুমের বলের বাউন্ডারিতে সহজ ক্যাচ উল্টো ছয় বানিয়ে দেন বেনি হাওয়েল। শেষ পর্যন্ত এক উইকেট  হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কুমিল্লা।  লিটন ৩৭ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেন চট্টগ্রামের ব্যাটাররা। উইল জ্যাকসের ব্যাটিং তাণ্ডবে সামিল হন আফিফ-শামীমরাও। এরপরই দৃশ্যপটে বৃষ্টি। আর তার পর কাটার মাস্টারের ঝলক। প্রথমে শামীম, এরপর জ্যাকস, নাঈম, বেনি হাওয়েল ও মেহেদিকে সাজঘরে ফিরিয়ে চট্টগ্রামকে ১৩৮ রানে আটকে ফেলে কুমিল্লা। অথচ ১২.৫ ওভার শেষেও ২ উইকেট হারিয়ে ১০৭ রান ছিল চট্টলার সংগ্রহে।

এর আগে মিরপুরে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ওয়াল্টনের উইকেট হারায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। তাতে অবশ্য দমে যাননি আরেক ওপেনার উইল জ্যাকস। বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারিতে কুমিল্লার বোলারদের হতাশায় ডোবান। তাকে সঙ্গ দিতে আসা আফিফও যেন জ্বলে উঠলেন আপন মনে। ২১ বল মোকাবিলা করে খেললেন ২৭ রানের ইনিংস।

তানভীর ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ৪টি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। ক্রিজের অপরপ্রান্তে ৩১ বল মোকাবিলা করে ফিফটি তুলে নেন জ্যাকস একই সঙ্গে তামিমকে পেছনে ফেলে চলতি বিপিএলের সর্বোচ্চ স্কোররার বনে যান এই ইংলিশ ব্যাটার। আসরে টিকে থাকতে হলে জয়ের বিকল্প দেখছেন না চ্যালেঞ্জার্স বাহিনী। ইনিংসের ১৩ তম ওভারে মিরপুরের আকাশ বেয়ে হঠাৎ বৃষ্টির আগমন। প্রায় ঘন্টাখানেক পর আবার মাঠে ফেরে ক্রিকেটাররা। ২ ওভার কমিয়ে খেলা নির্ধারণ করা হয় ১৮ ওভারে।

বৃষ্টিবিলাস শেষে মাঠে ফিরতে দেরি হলেও মাঠ ছাড়তে দেরি করেননি শামীম। ২২ বলে ৪ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিনি ২৬ রান করে মুস্তাফিজের বলে ক্যাচবন্দী হন। ক্রিজের অপরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তান্ডব চালানো জ্যাকস। একই ওভারে দুই উইকেট তুলে চট্টগ্রামের রানে চাকা মন্থর করে দেন মুস্তাফিজ। ইংলিশ ব্যাটার মাট ছাড়ার আগে ৩৭ বল মোকাবিলা করে ৫৭ রান করেন। তার ইনিংসটি ৫ চার ও ৩ ছক্কার মারে সাজানো ছিল। তার আগে ৮ ম্যাচে ২৮০ রান করে চলতি বিপিএলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বনে যান জ্যাকস।

এদিকে চট্টগ্রাম যখন রানের ফোয়ারায় ভাসছিলেন তখনই ত্রুটি চেপে ধরলেন কাটার মাস্টার। কাটার আর স্লোয়ারে ধস নামান চট্টলা শিবিরে। বেনি হাওয়েল ও নাইম ইসলামকে সাজঘরে ফেরান নিজের তৃতীয় ওভারে। বড় সংগ্রহের পথে এগোতে থাকা চট্টলা বাহিনী যেন হঠাৎ থমকে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ১৮ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানে থামে চট্টগ্রাম। ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ২৭ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন মুস্তাফিজ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.