আমিরাতের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে শোক-শ্রদ্ধা জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জনগণের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা ও শোক জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

0 10,580

রোববার (১৫ মে) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ শোক ও শ্রদ্ধা জানান।

এ ছাড়া শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন তাকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, রাজপরিবারের সদস্য, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আবুধাবিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সদ্যপরলোকগত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংহতি প্রকাশের জন্য শনিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় দেশটিতে সফরে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

এর আগে শুক্রবার (১৩ মে) সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

তার মৃত্যুতে ৪০ দিন দেশটিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। বেসরকারি কার্যালয়গুলোকেও তিন দিন কার্যক্রম বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার।

জায়েদ আল নাহিয়ান ২০০৪ সালের ৩ নভেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও আবুধাবির শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া এ নেতা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট এবং আবুধাবির ১৬তম শাসক ছিলেন। তিনি প্রয়াত শেখ জায়েদের জ্যেষ্ঠ পুত্র।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জায়েদ আল নাহিয়ান কেন্দ্রীয় সরকার ও আবুধাবি সরকারে আমূল পরিবর্তন আনেন। তার শাসনামলে আরব আমিরাতের নাগরিকরা উন্নত জীবনের দেখা পান।

শেখ খলিফা টেকসই এবং নিরাপদ উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করেন, যা নাগরিকদের সত্যিকার অর্থেই লাভবান করে। তার বাবা শেখ জায়েদের দেখানো পথেই তিনি চলেছেন। তিনি বলেছিলেন, আমি তার (বাবার) দেখানো পথেই ভবিষ্যতের পথে হাঁটতে চাই এবং নিরাপদ ও মজবুত শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চাই।

তার শাসনামনে তেল ও গ্যাস খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। ফলে দেশের অর্থনীতি চাঙা হয়ে ওঠে।

তিনি কেন্দ্রীয় জাতীয় কাউন্সিলে নমিনেশন প্রথা চালু করেন, যা দেশটিতে নির্বাচনের পথে উল্লেখযোগ্য একটি পদক্ষেপ।

শেখ খলিফা একজন ভালো শ্রোতা ছিলেন। তার ব্যবহার অত্যন্ত মধুর ছিল এবং জনগণের স্বার্থ তার কাছে প্রাধান্য পেত। তিনি আরব আমিরাত ও অন্যান্য অঞ্চলে সবার কাছে সমাদৃত ছিলেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.