বার্সেলোনার কাছে পাত্তাই পেল না রিয়াল মাদ্রিদ

বার্সা-রিয়াল সুপার এল ক্লাসিকো নিয়ে আপনার প্রেডিকশন কত ছিল। ২-০, ২-১ কিংবা তার কাছাকাছি একটা স্কোর হবে হয়তো। কিন্তু কে ভেবেছে ম্যাচের ৫১ মিনিট না পেরোতেই ৪-০ গোলে এগিয়ে যাবে বার্সেলোনা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আজ সেটিই হয়েছে। জাভি হার্নান্দেজের হাতে পুনর্জন্ম হওয়া বার্সেলোনা যেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালকে নিয়ে ছেলেখেলায় মেতেছিল এদিন। তবে কিছুটা কৃতিত্ব অবশ্য রিয়ালের বেলজিয়ান গোলকিপার থিবু কর্তোয়ারও প্রাপ্য। লস ব্লাঙ্কোসদের বিপক্ষে সবশেষ চার হারের প্রতিশোধের নেশায় মত্ত বার্সা ফুটবলারদের একের পর এক গোলা আটকে না দিলে গোল ব্যবধান কত হতো কে জানে!

0 9,819

অবশ্য শেষ পর্যন্ত চারটি গোলই থাকে। ম্যাচের ২৯ তম মিনিটে এসেছিল প্রথম গোল। আর চার নাম্বার গোল ৫১ তম মিনিটে। চারটি গোলের দুটি করেছেন অবেমেয়াং। আর একটি করে করেছেন যথাক্রমে ফেরান তোরেস এবং রোনাল্ড আরাউজো।

সুপার ক্লাসিকো শুরুর প্রথম মিনিটেই রিয়ালের ফাউল। ম্যাচ শুরুর ২৫ সেকেন্ডের মাথায় মিলিটাওয়ের ফাউলে ফ্রি-কিক আদায় করে নেয় বার্সা। ফেরান তোরেসের উড়িয়ে মারা বল সেবার অবশ্য জালের দেখা পায়নি। ম্যাচের প্রথম মিনিটের ধাক্কার পর পাল্টা আক্রমণে রিয়াল ফ্যানদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন রদ্রিগো।

ম্যাচের সপ্তম মিনিটেও দারুণ আক্রমণ শানায় রিয়াল মাদ্রিদ। মিলিটাওয়ের পাস থেকে ভালভার্দের জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন বার্সার জার্মান গোলকিপার স্টিগেন।

রদ্রিগো আর ভালভার্দের জোড়া আক্রমণের পর সারা মাঠে আর সেভাবে চোখে পড়েনি রিয়ালকে। অন্যদিকে, ডমিনেট করে খেলছে জাভি বাহিনী। শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারতো বার্সা। প্রথমে তোরেসের পর হাইভোল্টেজ এ ম্যাচে দলে সুযোগ দেম্বেলের দারুণ শট প্রতিহত করে দেন রিয়াল গোলকিপার কর্তোয়া। তবে শেষমেশ আর ঠেকাতে পারলেন না কর্তোয়া। আর কতক্ষণই বা এভাবে আটকানো যায় ইতিহাস গড়ার প্রতিজ্ঞা নিয়ে খেলতে নামা বার্সার ফুটবলারদের। ম্যাচের ২৯ তম মিনিটেই অপেক্ষা ফুরোয় বার্সার। দলকে লিড এনে দেন গ্যাবন স্ট্রাইকার অবেমেয়াং। অধিনায়ক নাচোর বাড়ানো শট দারুণ হেডে জালে পাঠান এ স্ট্রাইকার।

করিম বেনজেমার না থাকার ছাপ স্পষ্টত মাঠজুড়েই। কে বলবে এই দলটিই কি না চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, লা লিগার পয়েন্ট টেবিলেও রাজার আসনে। অথচ এল ক্লাসিকোতে প্রথম থেকেই বার্সার বিপক্ষে যেন নেতিয়ে পড়েছে কার্লো আনচেলত্তি বাহিনী।

রিয়ালের হয়ে যেন আজ একাই খেলছেন বেলজিয়ান গোলকিপার কর্তোয়া। একের পর এক বোমা গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন। ২৯ তম মিনিটে গোলের মিনিট পাঁচেক পরই আবারও গোল পেতে পারতেন অবেমেয়াং। কিন্তু এবার তার বল আটকে দেন কর্তোয়া।

তবে অবেমেয়াংয়ের এ আক্রমণের পর পাল্টা আক্রমণ করেন রিয়াল তারকা ভিনিসিয়াস। বার্সা গোলকিপারের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পেনাল্টির আপিলও করেন তিনি। তবে রেফারি তার আবেদনে সাড়া দেয়নি। বার্সা গোলকিপারের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয় তার। রিয়ালের পেনাল্টির আবেদনের পর উল্টো ব্যবধান বাড়ায় বার্সা। দেম্বেলের কর্নার থেকে গোল করেন রোনাল্ড আরাউজো। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সা।

বিরতির আগে যেখানে শেষ করেছিল, ঠিক সেখান থেকেই শুরু বার্সার। তবে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক কর্তোয়াকে একা পেয়েও অবিশ্বাস্য এক সুযোগ মিস করেন তোরেস। বিরতির পর ৪৬ মিনিটের মাথায় সুবর্ণ সুযোগ হারানোর পরপরই শাপমোচন তোরেসের। ৪৭ তম মিনিটেই অবেমেয়াংয়ের পাস থেকে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি এ ফুটবলার।

বার্সেলোনার গোল এক হালি পূর্ণ হয় ম্যাচের ৫১ তম মিনিটে। পিকের কাছ থেকে বল পেয়েছিলেন তোরেস। তার পাস থেকে বল জালে পাঠান অবেমেয়াং। এটি ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোল। 

Leave A Reply

Your email address will not be published.