করোনা টেস্ট ছাড়াই ঢোকা যাবে বাংলাদেশে

মহামারি করোনভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বাইরের দেশ থেকে বাংলাদেশ ঢুকতে করোনার আরটি পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। এখন থেকে টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ নিলেই বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করা যাবে বাংলাদেশে।

0 8,300

মঙ্গলবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় এক সার্কুলারে বিষয়টি জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বেবিচক জানায়, মঙ্গলবার থেকেই এ আদেশটি কার্যকর করা হবে।
এর আগে গত বছরের ১৬ আগস্ট একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বেবিচক জানিয়েছিল, মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে টিকার দুই ডোজ না নিলে ১১ দেশের যাত্রীদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সেই দেশগুলো ছিল- আর্জেন্টিনা, বতসোয়ানা, কিউবা, সাইপ্রাস, সোয়াজিল্যান্ড, জর্জিয়া, ইরান, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, স্পেন।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যে সকল যাত্রীরা এই ১১টি দেশ থেকে আসবেন তাদের অবশ্যই যাত্রার তারিখের ১৪ দিন আগে করোনাভাইরাসের প্রতিরোধক টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ নিতে হবে। এছাড়াও দেশে ফিরে তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তবে কারও মধ্যে যদি করোনার লক্ষণ কিংবা উপসর্গ দেখা দেয়, তাকে নিজ খরচে হোটেল বুকিং করে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এসব দেশ থেকে ভ্যাকসিন ছাড়া কোনো নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে না।
সেই সঙ্গে এসব দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশের নাগরিকরা স্ব-স্ব দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তাদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। একই নির্দেশনা এসব দেশ থেকে আসা নাবিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ কী অচিরেই সাগরের পানিতে ডুবে যাবে!

এছাড়া আরও ১৬টি দেশের যাত্রীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই দেশগুলো হলো- ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ফ্রান্স, ইরাক, আয়ারল্যান্ড, কাজাকিস্তান, কুয়েত, নামিবিয়া, কিরগিস্তান, নেদারল্যান্ডস, সাউথ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া ও যুক্তরাজ্য।
নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, এসব দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের করোনা টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ নিয়ে আসতে হবে। দেশে ফিরে তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তবে যারা টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ নেননি তাদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।
এই দেশগুলো বাদে অন্যান্য সব দেশের যাত্রীরা করোনার টিকা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এসব দেশের যাত্রীরা যদি ওপরের ২৭টি দেশের যেকোনো একটি থেকে ট্রানজিট হয়ে বাংলাদেশে আসেন সেক্ষেত্রে এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠান তাদের প্লেনে যাত্রাপথে কঠোর নজরদারিতে রাখবে।
তবে বাংলাদেশ থেকে অন্যান্য দেশে যাওয়া (বিদেশগামী) যাত্রীদের জন্য কোনো নির্দেশনা দেয়নি বেবিচক। একই সঙ্গে দেশে আসা ও দেশ ছেড়ে যাওয়া সবাইকে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিতে হবে। বিদেশি কূটনীতিকদের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বলবৎ থাকবে বলেও নির্দেশনায় জানানো হয়েছিল।
Leave A Reply

Your email address will not be published.