বৈধ চ্যানেলে প্রবাসীদের দেশে টাকা পাঠাতে দুই মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

বৈধ চ্যানেলে প্রবাসীদের টাকা দেশে পাঠানোর পথ সহজ করতে এবার দুই মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, শ্রমঘন দেশগুলোতে কর্মীদের সহায়তার জন্য প্রত্যেক দূতাবাসে এজেন্ট নিয়োগ করতে হবে। ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা এলে, রেমিট্যান্সে কখনোই সংকট হবে না বলেও জানান তিনি।

0 15,850

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) সকালে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় নির্মিত ২৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়।

বৈদেশিক কর্মসংস্থানে ভাগ্যবদলের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১৫০টি দেশে প্রায় দেড় কোটির মতো প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করছেন। যাদের পাঠানো অর্থে সমৃদ্ধ হয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারের রিজার্ভ।

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভবিষ্যতে প্রযুক্তিবান্ধব কর্মী গড়ে তোলার প্রয়াসে সারা দেশেই কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলছে সরকার। যার ধারাবাহিকতায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেন্টেনিয়াল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলায় নির্মিত ২৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো।

বৃহস্পতিবার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের এ আয়োজনে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এসব প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, প্রবাসী কর্মীদের যোগ্য করে পাঠাতে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষতাভিত্তিক বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য ২০২৫ সালের মধ্যে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে টিটিসি নির্মাণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতা। জানান, রিজার্ভের টাকা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।

তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ অর্থহীন, এই যুদ্ধে আমি দেখতে পাচ্ছি শুধু যারা অস্ত্র তৈরি করে তারাই লাভবান হচ্ছে। আর সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এটা একটু কমবেশি হবে। আমাদের কিছু কিছু লোক আছে, এটা নিয়ে নানারকম গল্পগুজব করে বেড়ায়। আমাদের তিন মাসের খাদ্য কেনার মতো যে রিজার্ভ সেটা থাকলেই যথেষ্ট।’

টেকসই রেমিট্যান্সপ্রবাহ তৈরি করতে প্রবাসীকল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এজেন্ট নিয়োগের নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু লোক আছে বিদেশি এবং আমাদের বিরোধী দলেরও কিছু এজেন্ট আছে, তারা নানাভাবে মানুষকে উসকায়, যেখানে আমাদের কর্মীরা কাজ করে সেখানে উসকায়। তাদের বলে ব্যাংকের মাধ্যমে না পাঠিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাতে। কিন্তু ব্যাংকের মাধ্যমে যদি টাকা পাঠায়, তাহলে তাদের টাকাটা নিরাপদ থাকে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। সেখান থেকে আমাদের যেসব এলাকায় শ্রমিকরা কাজ করে, তাদের জন্য একজন এজেন্ট নিয়োগ করে দিতে হবে। এভাবে যদি আমাদের শ্রমিকদের অর্থ সংগ্রহ এবং প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো যায়, তাহলে আমি মনে করি, টাকা পাঠাতে কোনো অসুবিধা হবে না।’

গেল এক যুগে নতুন শ্রমবাজার খুঁজে, সেখানে কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আমলের রেমিট্যান্সের হারের সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা অযৌক্তিক।

Leave A Reply

Your email address will not be published.