সিআইডি ইন্সপেক্টর সেজে নারীর সঙ্গে প্রতারণা, অতপর…

অনলাইনে এক নারী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সংবাদের ফুটেজ ধরে রিপোর্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারক কামরুল। নারী নির্যাতন মামলার সেই বাদীর নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নিজেকে সিআইডি ইন্সপেক্টর মেহেদী হিসেবে পরিচয় দেয় এবং নিজেকে সিআইডি সাইবার এক্সপার্ট হিসেবে জানায়।

0 7,219

সিআইডি ইন্সপেক্টর সেজে নারীর সঙ্গে প্রতারণা, অতপর...

মামলায় যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বাদীর কাছে আবির্ভূত হয় ত্রাতা হিসেবে।

মামলার আসামিপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তাদের ভয়ভীতি দেখায়। আসামিকে মাদকের অন্য একটি মামলা দিতে হবে বলে বাদীকে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের একটি ড্রাফট পাঠায়, এর জন্য পাঁচ হাজার টাকাও নেয় সে।
আরেকজনকে ভুয়া এসপি সাজিয়ে বাদীর সঙ্গে কথা বলায়। এতসব কার্যক্রম এবং যোগাযোগে দ্রুততায় বাদীর বিশ্বস্ততা অর্জন করে প্রতারক কামরুল।
নারী নির্যাতন মামলা প্রমাণ করার জন্য প্রতারক কামরুল বাদীর কাছ থেকে কৌশলে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও নেয়। সরল বিশ্বাসে বাদী সিআইডি অফিসার ভেবে একান্ত গোপনীয় সব ফুটেজ শেয়ার করে। ফুটেজ পেয়েই প্রতারকের কথাবার্তার ধরন এবং চেহারা পাল্টে যায়। প্রতারক কামরুল এ কাজের বিনিময়ে ওই নারীর কাছে দুই লাখ টাকা এবং তার সঙ্গে রাত যাপনের প্রস্তাব দেয়। ওই নারী অবশেষে বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারকের পাল্লায় পড়েছেন। ভুয়া আইডি খুলে বাদীর ছবি ভাইরাল করার হুমকি দেয় কামরুল। রীতিমতো চাপে রাখে ওই নারীকে। ওই নারীর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।
উপায়ান্তর না দেখে ওই নারী মালিবাগ সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে যান। ইন্সপেক্টর মেহেদী নামের কাউকে খুঁজে পান না তিনি। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই নারী। পরে এক সিনিয়র কর্মকর্তার নজরে এলে পুরো ঘটনা শুনে অভিযোগ নেওয়া হয়। সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টার বিষয়টি অনুসন্ধান করে। আসামিকে শনাক্ত করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সাইবার টিমের অভিযানে কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তার এ অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সব প্রমাণ পাওয়া যায়। ডিজিটাল আলামতের সূত্র ধরে জানা যায়, দীর্ঘদিন সে নিজেকে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নানাজনের সঙ্গে, বিশেষ করে মেয়েদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। কখনো সে নিজেকে ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা বলেও অনলাইনে পরিচয় দিত।
তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত সিল, বিভিন্ন দফতরে পাঠানো চিঠির কপি, পাঁচটি ফেক ফেসবুক আইডি, বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

প্রতারক কামরুলের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। এ মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.