তত্ত্বাবধায়ক সরকা‌রের অধীন নির্বাচন চায় বিএনপি: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

0 5,515

তিনি বলেন, দেশের যে অবস্থা এখন, দেশকে মুক্ত করতে হবে। এ জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই দানবের মোকাবেলা করতে হবে। এ দানব সরকার আমাদের বুকের ওপর চেপে বসে আছে। আন্দোলনে মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বুধবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি আয়োজিত জেলা সদর স্কুল মাঠে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমতায় আছেন, ততক্ষণ নির্বাচন কমিশন গঠন করে লাভ হবে না। সরকার তো নিজেই নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ সরকার থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সব নির্বাচনে সরকারদলীয়রা জোর করে ক্ষমতায় যাচ্ছে। অতএব নির্বাচনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।

এ সময় তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ না দিলে এ দায় সরকারকে নিতে হবে। অন্যথায় দুর্বার আন্দোলনের মধ্যে আপনারা পালানোর সুযোগ পাবেন না।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, পাকহানাদার বাহিনীর আক্রমণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যখন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাপাঠ করেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে প‌ড়েন। তখন খালেদা জিয়া পালিয়ে না গিয়ে দেশেই ছিলেন। পরে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে খালেদা জিয়াকে আটক করে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কারাগারে রাখে পাকসেনারা। এ জন্য খালেদা জিয়াকে দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা বলেছি। সেদিন যদি তিনি এই কাজটি না করতেন তাহলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যেতে পারতো।

সেই খালেদা জিয়াকে বিনাঅপরাধে জেলে আটক রাখা হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। বারবার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসায় বিদেশে নিতে বললেও সরকার কোনও কর্ণপাত করছে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ব‌লেন, আমরা বারবার বলেছি মানবিক কারণে বাধা দিবেন না কিন্তু সরকার শুনছেন না। এ ব্যাপারে বারবার আইন দেখায় আইনমন্ত্রী। অথচ তারা নিজেই বেআইনিভাবে ক্ষমতায় রয়েছে। আগের রাতে নির্বাচন করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গত ১৪ বছর ধরে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা দেশটাকে একটা আস্তাকুঁড়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সব ধ্বংস করে দিয়েছে তারা। টাঙ্গাইলের আব্দুস সালাম পিন্টুকেও মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে। আমাদের দলের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান, কেন্দ্রীয় বিএনপির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর রহমান মিলন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী, বিএনপির শিশুবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল খেকেই বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপির সমাবেশে আসতে থাকেন নেতাকর্মীরা। তবে বিভিন্ন জায়গায় তাদের নানা রকমের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সমাবেশে আসার বাস থেকেও তাদের নামিয়ে দেওয়া অভিযোগ করেছেন তারা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.