দক্ষিণাঞ্চলেও রেললাইন হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও রেললাইন স্থাপন করা হবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সেবার মানোন্নয়নে লোকবল বাড়ানো হবে। রেলের বহরে সদ্য সংযুক্ত নতুন ৪৬টি লোকমোটিভ ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

0 15,102

বুধবার (২৭ এপ্রিল) সকালে বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর এবং নতুন ৪৬টি রেল ইঞ্জিন উদ্বোধন করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি রেলসেবা বন্ধ করতে চাইলেও বর্তমান সরকার এ সেবা সম্প্রসারিত করেছে।

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা বিআরটিসিকে যেমন লাভবান করেছি, রেলকেও করব। যেটাকে অলাভজনক বলে বন্ধ করতে বলা হয়েছিল এবং বন্ধ করে দিয়েছিল বিএনপি সরকার, আজকে সেটা চালু করে আমরা এটাও প্রমাণ করেছি রেলকেও লাভবান করা যেতে পারে এবং করা যায়।
বাংলাদেশের রেলের ইতিহাস প্রায় দেড়শ’ বছরেরও বেশি। যুগে-যুগে অবহেলা আর পরিকল্পনাহীনতার বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে এখন ক্রমেই আধুনিক রেল নেটওয়ার্কের পথে বাংলাদেশ। রেলের লাইন সম্প্রসারণ এবং আধুনিকায়নে চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ধারায় এখন চেষ্টা চলছে নদীবেষ্টিত দক্ষিণ জনপদেও রেললাইন স্থাপনের। আসছে ঈদে স্বাচ্ছন্দ্য যাত্রা নিশ্চিত করতে বহরে যোগ হয়েছে সদ্য কেনা ৩০টি মিটারগেজ এবং ১৬টি ব্রডগেজ লোকমোটিভ।
আধুনিক প্রযুক্তির ট্রান্সমিশন পদ্ধতি, মাইক্রো প্রসেসর কন্ট্রোল, জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এসব ডিজেল ইঞ্জিন নিশ্চিত করবে দ্রুতগামী নিরাপদ যাত্রা। বুধবার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এগুলো উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় তিনি বলেন, অতীতে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে রেল বন্ধের চেষ্টা করা হলেও সেই খাতকে লাভজনক করা বর্তমান সরকারের সাফল্য।

লোকবল সংকট কাটাতে হবে রেলওয়েকে- একথায় জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয়বার যখন আমি সরকারের আসি তখন সিদ্ধান্ত নেই রেলের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় করার। কারণ আলাদা মন্ত্রণালয় না করলে আলাদা বাজেট পাবে না, আলাদাভাবে প্রজেক্ট নিতে পারবে না, কাজ করতে পারবে না। তাই ২০০৯ সালে সরকারে আসার পর এ সিদ্ধান্ত নেই এবং ২০১১ সালে আমি রেল মন্ত্রণালয় গড়ে তুলি। রেল সম্প্রসারণ করা, রেলকে আরও উন্নত করা, মানসম্পন্ন করা; মানুষ যাতে রেলে যাতায়াত করতে পারে, পণ্য পরিবহন করতে পারে সেই ব্যবস্থাটা আমি নেই।

চলমান উন্নয়নের ধারায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও রেলপথ সম্প্রসারিত হবে বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয় এ অনুষ্ঠান থেকেই। একটি ব্রডগেজ ও একটি মিটারগেজ কোচে আধুনিক অন্দরসজ্জার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ফুটে উঠেছে নান্দনিকভাবে। নানাবয়সী মানুষকে সুযোগ করে দিতে দেশের প্রত্যেকটি স্টেশনে নিয়মমাফিক এ ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর পৌঁছে যাবে।
Leave A Reply

Your email address will not be published.