লাভ-ক্ষতি হিসেব করেই উন্নয়ন প্রকল্প নেয় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার সময় লাভ-ক্ষতি হিসেব করেই সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে মানুষের কোনো কাজে লাগবে না, এমন কোনো প্রকল্প হাতে নেয়নি সরকার। বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও হিসেব-নিকেষ করেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কেননা, সেই বিনিয়োগই আমার কাছে গ্রহণযোগ্য, যার বিনিময়ে মানুষের উপকার নিশ্চিত হবে।

0 15,277

সোমবার (১১ এপ্রিল) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বসেন রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানের কার্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীরা। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, যারা আমাদের বিরুদ্ধে লিখছে, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- পত্রিকার লেখা পড়ে আমি রাষ্ট্র চালাই না। তারা এসব করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় আছে। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাচ্ছে, এ রকম একটা কথা তারা রটিয়ে রটিয়ে লিখছে। উন্নয়নের জন্য যেখান থেকে যত টাকা ঋণ নিতে হয়েছে, তার প্রত্যেকটা পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। যত দুর্দশাই হোক, আমরা কিন্তু ঋণখেলাপি হইনি। যার কাছে যত ঋণ নিয়েছি, সেসব সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে। এ দিক বিবেচনায় আমাদের রেকর্ড সব থেকে ভাল।

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে চলার প্রস্তুতি সবসময় থাকতে হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একদিকে করোনা অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে হয়তো তৃতীয় আরো একটা সমস্যা বা ধাক্কা দেখা দিতে পারে। এখন এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে, তেল আমদানি করতে হচ্ছে। যেসবের দাম বিশ্ববাজারে বেড়ে গেছে। সারা দেশে বিদ্যুৎ দিয়েছি, দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে সেগুলো কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সেই চিন্তা বা পরিকল্পনা এখন থেকেই নিতে হবে যাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এসবের বিকল্পও আমাদের খুঁজতে হবে।

তিনি বলেন, যেসব পণ্য আমদানি না করে উপায় নেই, সেসব তো বেশি দামেই কিনতে হবে। যুদ্ধের প্রভাবে নতুন সংকটে পড়তে হতে পারে। সেসব সংকট কিভাবে মোকাবিলা করা হবে তার পরিকল্পনা এখন থেকেই নিয়ে রাখতে হবে। যাতে আমাদের রিজার্ভের ওপর চাপ না পড়ে, কারো মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকতে হয়।

‘সরকারে থাকা মানে দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করার একটা সুযোগ’ মন্তব্য করে সরকার প্রধান আরও বলেন, সারাবিশ্বেই দ্রব্যমূল্য বেড়েছে; সেটারই প্রভাব এসেছে বাংলাদেশেও। মানুষকে সাধ্য অনুযায়ী উৎপাদনমুখী হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।

এ সময় বাংলাদেশ সঠিক পথেই রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

Leave A Reply

Your email address will not be published.