মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তালেবান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চায় কিনা; এখন তাদের সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তালেবানের উগ্র বিশ্বাসে কোনো পরিবর্তন এসেছে বলেও মনে করেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আফগানিস্তানের এই ইসলামি আন্দোলনের মধ্যে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা; জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, না, তারা নিজেদের বদলায়নি। আমি মনে করি, তারা কিছুটা অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। বৈধ সরকার হিসেবে তারা কি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চায়? আমি মনে করি না, তারা সেটা চাচ্ছে।
তালেবান তাদের বিশ্বাসের প্রতি অটল বলেও মন্তব্য করেন জো বাইডেন। তিনি বলেন, নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে তালেবানের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হবে।
এদিকে তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পতনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে দেশটির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে কার্গো যান ও পায়ে হেঁটে চলাচলও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ডন অনলাইনের খবর এমনটিই বলছে।
জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য খুবই নিম্ন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। তখন বেলুচিস্তানের চামান সীমান্তের কাছের স্পিন বোলদাক জেলা দখলে নিয়ে যায় তালেবান।

পাকিস্তানের শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, গেল ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ইতিহাসের সবচেয়ে নিচে চলে যায়। তখন তোর্কহাম, চামান, খারলাচি ও গুলাম খান সীমান্ত দিয়ে ৪৭৫টি পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করেছে। এদিন তালেবানের হাতে কাবুলের পতন ঘটলে আফগানিস্তানে তালেবান শাসন জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তালেবানের বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে। বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যদিও ভারতের সঙ্গে সব ধরনের আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান। ভারতের কেন্দ্রীয় রফতানি সংস্থার (এফআইইও) মহাপরিচালক ডা. অজয় সাহা বলেন, পাকিস্তানের ট্র্যানজিট রুট দিয়ে কার্গো চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান। এর মধ্য দিয়ে দেশটি থেকে ভারতের আমদানি বন্ধ রয়েছে।
বুধবার আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে ট্রাক চলাচল বেড়ে এক হাজার ১২৩টিতে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ শুল্ক কর্মকর্তা বলেন, মুহাররমের পর এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমি প্রত্যাশা করছি।
তিনি আরও বলেন, গত দুদিনের প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে, পরবর্তী সপ্তাহে সীমান্ত দিয়ে কার্গো ও ট্রাকের যাতায়াত আরও বাড়বে।
বাণিজ্য সুবিধা বাড়াতে বেশ কয়েকটি স্থগিত ইস্যুকে বেশি গুরুত্ব দেবে আফগানিস্তানের তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকার। ওই শুল্ক কর্মকর্তা বলেন, নভেম্বর থেকে আফগান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। এতে এসব বিষয়ের সমাধানের বিষয়টিই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
তবে তালেবানের অধীন পণ্য পরিবহন বেড়ে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে চালকেরা বলছেন, আফগানিস্তানেরে অংশে দায়িত্ব পালন করা দেশটির পুলিশ ও পরিবহন কর্মকর্তারা চালকদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২৫ হাজার আফগানি পর্যন্ত দাবি করতেন। এই অর্থ না দিলে কোনো ট্রাক পাকিস্তানে ফিরে যেতে দেওয়া হতো না। কিন্তু তালেবানের অধীন তাদের কাছ থেকে কেউ সেই অর্থ আদায় করছে না।
গত সপ্তাহে সীমান্ত যোগাযোগ কমিটির বৈঠকে আফগানিস্তানের কনস্যুলেটের বাণিজ্য কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে যে আফগান অংশে দুই হাজার খালি যান কিংবা কন্টেনার আটকে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here