লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ডিরেক্টর কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মানবতাকে ভালো না বাসলে লায়নিজম করা যায় না। ৪০ বছর আগেও সারাবিশ্বে লায়ন ছিল সাড়ে ১৪ লক্ষ। এখনো তাই আছে। কারণ প্রতিবছর বহু লায়ন যোগদান করলেও অনেকে টেকে না। কারণ মানুষকে যেই ভালোবাসে, সেই মানবতার সেবায় লায়নিজমের সাথে থাকতে পারে। লায়নিজমে কেউ নিজের জন্য চাইতে আসে না। কারণ লায়নরাই বিশ্বাস করে সবার উপরে মানুষ সত্য।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে লায়ন্স ক্লাবস্‌ ইন্টারন্যাশনাল জেলা ৩১৫-বি৪ এর উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনার ও স্বর্ণপদক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লায়ন্স ক্লাবস্‌ ইন্টারন্যাশনাল জেলা ৩১৫-বি৪ গভর্নরের ডাক দেওয়া ‘সবার উপরে মানবতা’ শীর্ষক স্লোগানের উপর এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা গভর্নর লায়ন ডা. সুকান্ত ভট্টাচার্য্য।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ইসলামী অনুশাসনের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আল্লাহ বলেছেন- আমার বান্দাকে সাহায্য করো, পরকালে তুমি আমার দেখা পাবে। এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান বলেন নাই, বলেছেন মানবতার কথা। আল্লাহ মানুষকে ভালোবাসেন, আল্লাহ মানবতাকে ভালোবাসেন। সেজন্য আল্লাহ আমাদের হুকুম দিয়েছেন মানুষের সেবা করার জন্য। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইয়ের লেখা উদ্বৃত করে লায়ন কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মানুষকে ভালোবাসার চেয়ে অন্যকিছুতে আনন্দ পাওয়া যায় না। নারী নির্যাতন হচ্ছে মানবতার কলংক। এজন্য লায়নদের পাড়ায় পাড়ায় সচেতনতা বাড়ানোর অনুরোধ করেন। ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ সারাবিশ্বে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে গণ্য হয়েছেন। স্বাস্থ্যখাতের দৈন্যতা টেনে তিনি বলেন, অনেক হসপিটাল আছে, টাকা না দিলে লাশও ছাড়ে না। কিন্তু অধ্যাপক প্রাণগোপাল দত্ত নিজের চেম্বারে অনেক দুস্থ মানুষের চিকিৎসাপত্র দেন, সাথে ওষুধ কেনার জন্য টাকাও দেন। এটাই একজন চিকিৎসকের মানবতা। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবকে আজকের বিশ্বে মানবতার বড় পরীক্ষা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বর্ণপদকে ভূষিত বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ডা. প্রাণগোপাল দত্ত নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, লায়ন্স তার জন্ম থেকে মানবতা দিয়ে আসছে। লায়ন্স একশত বছরের উপরের বিশাল বটবৃক্ষ প্রতিষ্ঠান। মানবতাবোধের মূলস্তম্ভ হলো মা। মা’র সাথে মাতৃভূমি যদি এক হয়ে যায় তখন মানুষের মধ্যে মানবতাবোধ থাকতে বাধ্য। মায়ের সাথে মাতৃত্ব, মানবতা ও মাতৃভূমি জড়িত।’
তিনি বলেন, ‘স্রষ্টা পুরুষদের পাঁচটি ইন্দ্রিয় দিলেও নারীদের ৭টি ইন্দ্রিয় দিয়েছেন। অবচেতন মনের পাশাপাশি একটি চেতন মন দিয়ে স্বয়ং স্রষ্টাই নারীদের স্বাবলম্বী করে দিয়েছেন। তাছাড়া আল্লাহ সন্দেহের অনুভূতি দিয়েছেন নারীদের। সন্তানকে অন্যায় থেকে রক্ষার জন্য, সৎপথে পরিচালিত করার জন্য মায়েদের সন্দেহ প্রবণতাটাকে কাজে লাগানো উচিত। কারণ মাতৃত্বের অভাবে সন্তান নষ্ট হচ্ছে। নারীদের সম্মান করলে, মর্যাদা দিলে প্রজন্ম ভালো হবে।
প্রযুক্তি নির্ভর মোবাইল ফোনের অপব্যবহারের কারণে সমাজ নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে সমাজে ধর্ষণ, লুন্ঠন, নারী নির্যাতন বাড়ছে। এপিজে আবদুল কালামের ভাষায় বলি, প্রযুক্তি সম্পর্কে না জানা পাপ, প্রযুক্তির অতিমাত্রায় ব্যবহার মহাপাপ এবং প্রযুুক্তির অপব্যবহার অভিশাপ।’ আমরা এখন অভিশাপে চলে আসছি। প্রযুক্তির অভিশাপ থেকে ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে মোবাইল থেকে আমাদের সন্তানদের দূরে নিয়ে যেতে হবে।
দুই পর্বের অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বের সেমিনার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন লায়ন ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদুর রহমান আজাদ, ভাইস এরিয়া লিডার এবং কাউন্সিল চেয়ারপার্সন লায়ন আব্দুল হক। অতিথি ছিলেন হিসেবে ছিলেন প্রথম ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন আল সাদাত দোভাষ, দ্বিতীয় ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ সিদ্দিকী। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান কমিটির চেয়ারম্যান লায়ন কাজী জাহিরুল ইসলাম, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ জাবেদ হোসাইন। আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির এডজাংক্ট ফ্যাকাল্টি প্রফেসর ড. মঞ্জুর-উল-আমিন চৌধুরী। দ্বিতীয় পর্বের ‘গোল্ডমেডেল এওয়ার্ড সিরিমনি-২০২১’ অনুষ্ঠানে সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য লায়ন কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ডা. প্রাণগোপাল দত্তকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন জেলা গভর্নর লায়ন মোস্তাক হোসাইন, কেবিনেট সেক্রেটারি লায়ন অশেষ কুমার উকিল, কেবিনেট ট্রেজারার লায়ন এস.এম. আশরাফুল আলম আরজু। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সেমিনার কমিটির সেক্রেটারি লায়ন উত্তম কুমার দাশ। অনুষ্ঠানে আনুগত্যের শপথ বাক্য পাঠ করান এডভোকেট লায়ন মো. নুরুল ইসলাম, কোরআন তেলাওয়াত করেন লায়ন কাজী মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন লায়ন আয়শা হক শিমু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here