চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কয়েকটি ওয়ার্ডে কয়েকজন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়ালেও অন্য ওয়ার্ডগুলোতে বিদ্রোহীরা অনড় রয়েছেন। আর বিদ্রোহীদের বহিস্কারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সহ চট্টগ্রাম মহানগর নেতৃবৃন্দও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীদের নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষাতেই রয়েছেন সকলে।
জানা গেছে, কেন্দ্রে বহিস্কারের সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্তসহ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিক পদক্ষেপ নেয়ার পরও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীরা অনমনীয়ই রয়েছেন। তারা নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে বিদ্রোহীদের কারণে নির্বাচনী মাঠে সহিংসতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তারা বলছেন, বিদ্রোহীদের কারণে উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ সংঘাতপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এখনি পদক্ষেপ না নিলে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে। যাতে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে।
শেষ পর্যন্ত মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিদ্রোহীদের বহিস্কারের সুপারিশ সম্বলিত চিঠিটি মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আজ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করবেন বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক। এরপর কেন্দ্র থেকে কি সিদ্ধান্ত আসে সেটার অপেক্ষায় তাকিয়ে আছেন দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীসহ নগরবাসী। এদিকে বিদ্রোহী যেই হবে হোক-তার রক্ষা নেই উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আহমদ হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে যারা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন তারা আর দলে থাকতে পারবেন না। তাদেরকে বহিস্কার করা হবে। যারা দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তারা স্ব উদ্যোগে হয়েছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে হয়েছেন। আমাদের পার্টির সিদ্ধান্ত কঠিন। দলীয় সভানেত্রী বলে দিয়েছেন, যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হবে তারা ভবিষ্যতে আর কোনো নির্বাচনে তারা দলীয় মনোনয়ন পাবেন না এবং তারা আর পার্টিতে স্থান পাবেন না। আর যারা বিদ্রোহী প্রার্থীকে সাপোর্ট করবেন তাদেরও আইডেন্টিফাই করবো। তাদের বিরুদ্ধেও আমরা অ্যাকশনে যাবো। নওফেল (শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল) বিদ্রোহীদের নামের তালিকা নিয়ে ঢাকায় যাবেন। পার্টির সেক্রেটারিকে (আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) দিবেন। বিদ্রোহীদের ব্যাপারে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন আজাদীকে জানান, বিদ্রোহীদের ব্যাপারে আমরা গত বুধবার রাতে ওয়ার্কিং কমিটির সভা করেছি। যারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তাদেরকে বহিস্কারের জন্য সুপারিশ কেন্দ্রের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা তো কাউকে বহিস্কার করতে পারি না। কেন্দ্রের কাছে সুপারিশে করতে পারি। কেন্দ্রের কাছে পাঠানোর জন্য আমরা চিঠি রেডি করেছি। শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল চিঠি নিয়ে যাবেন। আমরা এখন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রইলাম। তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে নয়, যারা যুবলীগ, ছাত্রলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ-শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের পদ পদবীতে আছেন – এমন কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাদেরকেও স্ব স্ব সংগঠন থেকে বহিস্কারের জন্য সুপারিশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতেও তাদেরকে কোনো পদ পদবীতে রাখা হবে না এবং নির্বাচনেও প্রার্থী হতে পারবে না। আওয়ামী লীগের পদ-পদবীধারী কোনো নেতা যদি এই সব বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করেন-তাদেরকেও ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান আ.জ.ম নাছির।
এদিকে বিদ্রোহীদের দলীয় ভাবে বয়কট করতে জোট বেধেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তারা বিদ্রোহীদের নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়ার দাবিতে ইতোমধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। দেখা করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সাথে। দেখা করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী সহ দলীয় মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরীর সাথেও।
এই ব্যাপারে ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও সাবেক কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী আজাদীকে জানান, চসিক নির্বাচনে অনেক ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছেন। তারা নৌকার বিপক্ষে কাজ করছেন অভিযোগ তুলে তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য দল থেকে তাদের বহিস্কারের দাবি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here