বিশ্বব্যাপী দাম কমার পাশাপাশি দেশের কার্ব মার্কেটেও ডলারের মূল্যে ব্যাপক ধস নেমেছে। ৮৮ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া প্রতি ডলার গত কদিন ধরে ৮৫ টাকায় বিনিময় হয়েছে। প্রতি ডলারে তিন টাকা কমে যাওয়ার রেকর্ড সাম্প্রতিক সময়ে নেই বলেও সূত্র জানিয়েছে। অপরদিকে বিশ্ববাজারে ডলারের মূল্য কমে যাওয়ায় দেশের রপ্তানি বাণিজ্য এবং রেমিটেন্সে নেতিবাচক প্রভাবের আশংকা করা হচ্ছে। অবশ্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ সূত্রগুলো জানিয়েছে, করোনাকালে ভয়াবহ ধস দেখা দেয় মার্কিন অর্থনীতিতে। লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়ে। এতে করে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দাম ক্রমাগত কমতে থাকে। ইতোমধ্যে ইউরো এবং পাউন্ডের বিপরীতে ডলারের দাম কমেছে। কমেছে সুইজ ফ্রাংকের বিপরীতেও। বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রার সাথে ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। কার্ব মার্কেটে ব্যাপক ধস নেমেছে ডলারে। ব্যাংকে ডলারের বিনিময় হার কমানোর সুযোগ না থাকলেও কার্ব মার্কেটের সাথে ব্যাংক রেটের পার্থক্য অনেকটা ঘুচে গেছে। ব্যাংকে টাকার সাথে ডলারের বিনিময় হার ৮৫ টাকার কাছাকাছি হলেও কার্ব মার্কেটে ডলার ৮৮ টাকারও বেশি দরে বিক্রি হয়েছে। ব্যাংকে সবসময়ই ডলারের সংকট থাকে। এতে করে কার্ব মার্কেট থেকে ডলার কিনে প্রয়োজন মেটান ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের অনেকেই। আবার ভ্রমনসহ নানা কাজে কার্ব মার্কেট থেকে ডলার কেনা হয়। গত বছর কয়েক কার্ব মার্কেটে ডলারের চড়া দাম পরিলক্ষিত হয়েছে। ক্রমাগত বাড়তো দাম। দশ বিশ পয়সা এদিক ওদিক হলেও আবারো বেড়ে যেতো। কিন্তু করোনাকালে একেবারে অবিশ্বাস্যভাবে ডলারের দাম কমতে শুরু করে। কার্ব মার্কেটে গত বৃহস্পতিবার ৮৫ টাকা ১০ পয়সা দরে ডলার বিনিময় হয়েছে। গত শুক্রবার বিশ্ববাজারে ইউরো প্রতি ডলারের মান কমেছে ০.২ শতাংশ। প্রতি ইউরোর বিনিময়ে বর্তমানে ১.১৮৭৪ ডলার পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি পাউন্ডের সাথে এখন ডলারের বিনিময় হার ১.৩২৩৭ ডলার। পাউন্ডের মূল্য ০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুইস ফ্রাংকের বিপরীতেও ডলারের মান কমেছে। পৃথিবীর বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলোর সাথে ডলারের বিনিময় হার কমে গেছে। চীনের মুদ্রার সাথেও কমেছে ডলারের বিনিময় হার। প্রতি ডলারের বিনিময়ে এখন ৬.৮৯ ইউয়ান পাওয়া যাচ্ছে।
কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম কমে যাওয়ায় টাকা শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এতে করে আমদানি বাণিজ্যে ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে যাওয়া ডলারের বিপরীতে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু রপ্তানি বাণিজ্যে ডলারের এই মন্দাভাব ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা এক কোটি প্রবাসীর অনেকেই ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে দেশে টাকা পাঠান। কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম কমে যাওয়ায় এদের অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই ব্যাপারে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. মইনুল ইসলাম বলেন, হুন্ডির দাপট কমেছে। মানুষ বাইরে যেতে পারছে না। এর ফলে কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম কমেছে। কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম কমায় ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে রেমিটেন্স আসার প্রবণতা কমে যাবে। প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাবেন। যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে সমৃদ্ধ করবে। করোনাকালে দেশের রেমিটেন্স কমে যাওয়ার যেই আশংকা তৈরি হয়েছিল ডলারের দাম কমে যাওয়ার ফলে সেই সংকট অনেকটা কেটে যাবে। দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়াও একটি শুভ লক্ষণ বলে প্রফেসর ড. মইনুল ইসলাম মন্তব্য করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here