এবারের বিপিএল তাঁর শুরু হয়েছিল ফিফটি দিয়ে। ১৮ ডিসেম্বর ‘প্রিয়’ মাঠ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে স্বাগতিক চট্টগ্রামের বিপক্ষে করেছিলেন ৫২ রান। পরে আর লম্বা ইনিংস আসেনি মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে। একাদশের বাইরেও থাকতে হয়েছে ৩ ম্যাচ।

‘পাওয়ার হিটার’ তিনি নন, যথার্থ ক্রিকেটীয় শট খেলেই তাঁকে রান করতে হয়। ২২ গজে যখন তিনি ব্যাটিং করেন, তাঁর ধ্রুপদি ব্যাটিং চোখকে ভীষণ শান্তি দেয় এ কারণেই। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনি রাঙাতে জানেন—তবু মুমিনুলকে শুনতে হয় তিনি ‘টেস্ট ব্যাটসম্যান’! টেস্টের মুমিনুল যে টি-টোয়েন্টিতে ঝড় তুলতে পারেন, সেটি ভালোভাবে বোঝাতে আজ বেছে নিয়েছেন খুলনা টাইগার্সকে।

শুরুটা অবশ্য তাঁর হয়েছিল টেস্টের গতিতেই। নেমেছিলেন তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেন করতে। ১ রানে তামিম ফিরে গেলে ঢাকা প্লাটুন তখন খানিকটা চাপে। সেই চাপেই স্কোরিং শট খেলতে একটু সময় নিতে হয়েছে। এগোতে হয়েছে ধীরলয়ে। প্রথম রানটা নিতেই লেগেছে ৬ বল। ৩১ বল খেলেও স্ট্রাইকরেট ১০০-এর ওপর নিতে পারেননি ঢাকার বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।

নিজের স্ট্রাইকরেট, দলের রানরেট বাড়িয়ে নিতে মুমিনুল বেছে নেন শফিউল ইসলামকে। শফিউলের করা ১৫তম ওভারের প্রথম তিন বলে ৪, ৪, ৬—খোলস থেকে বেরিয়ে আসা তখনই। পরের যে তিনটি ওভার ছিলেন, প্রতিটিই মেরেছেন চার-ছক্কা। ৪১ বলে ফিফটি করে মুমিনুল এগোচ্ছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির দিকে।

এই টুর্নামেন্টে মুশফিকুর রহিম দুবার ৯০-এর ঘরে গেছেন, অপরাজিত থেকেও তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। মুমিনুলের সুযোগ ছিল প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে সেঞ্চুরি করা। ৫৯ বলে ৭ চার আর ৪ ছক্কায় ৯১ রান পর্যন্ত গিয়ে মোহাম্মদ আমিরের করা ১৯তম ওভারের শেষ বলে তুলে মারতে গিয়ে হলেন রবি ফ্রাইলিঙ্কের ক্যাচ। ১৬ স্ট্রাইকরেটে স্কোরিং শট শুরু করা মুমিনুল যখন থামলেন, নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে—স্ট্রাইকরেট ১৫৪.২৩! সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, চতুর্থ উইকেটে মেহেদী হাসানের সঙ্গে ১৫৩ রানের জুটি গড়ে ঢাকাকে এনে দিয়েছেন ৪ উইকেটে ২০৫ রানের বড় স্কোর।

সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে করা হয়নি, তাতে কী! টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ারসেরা ৯১ রানের যে ইনিংসটা খেলে ফিরলেন, ড্রেসিংরুমের সামনে সতীর্থরা অভিনন্দন বৃষ্টিতে ভাসাতে ভুললেন না। অভিনন্দন জানালেন মিরপুরের গ্যালারিভর্তি দর্শকেরাও। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মুমিনুলের ব্যাট থেকে আগেও দৃষ্টিনন্দন ইনিংস এসেছে। অবশ্য এসব ইনিংসের কোনোটিই গত চার বছরে তাঁর জন্য রঙিন পোশাকে বাংলাদেশ দলে প্রবেশাধিকার দেয়নি।

জাতীয় দলের হিসাব-নিকাশ মাথায় রেখে মুমিনুল টি-টোয়েন্টি খেলা বাদ দিয়েছেন অনেক আগেই। তিনি খেলেন উপভোগের মন্ত্র আর নিজ দলের জন্য কিছু করার তাগিদে। সে মন্ত্র-তাগিদে তাঁর ব্যাটে কখনো হেসে ওঠে এভাবে, যা দেখতে হয় মুগ্ধ নয়নে।