চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের পিছনের ঝর্ণায় পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন সাইফুর রহমান মুন্না নামে স্থানীয় এক যুবক।
জানা যায়, আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে দশটার দিকে ঝর্ণার দিকে যান ঐ যুবক।
পরে ঝর্ণায় পড়ে তলিয়ে যাওয়ার খবর জানানো হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।
তারপর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম দুই ঘণ্টা অভিযান শেষে দেড়টার দিকে নিহত অবস্থায় উদ্ধার করে মুন্নাকে।
মুন্না উপজেলার ফতেপুর গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে। তার বয়স ২৫ বছর।
নিহত মুন্না হাটহাজারী কলেজের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, পাহাড়ে সবজির বাগান রয়েছে মুন্নাদের। সেখান থেকে ফেরার পথে ঝর্ণার পাশ দিয়ে আসার সময় পা পিছলে ঝর্ণায় পড়ে যান তিনি।
পড়ার পর পরই তলিয়ে যান। পরে তাকে মৃত উদ্ধার করা হয়। এর আগেও এখানে পড়ে অনেকে মারা গেছেন।
হাটহাজারী ফায়ার স্টেশনের সহকারী কর্মকর্তা ও টিম লিডার মো. আবু জাফর বলেন, “খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। শহর থেকেও একটি ডুবুরি টিম উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। চার সদস্যের ডুবুরি টিমের টানা দুই ঘণ্টার চেষ্টায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া আজাদীকে বলেন, “স্থানীয় একজন ঝর্ণায় পড়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে আমরা নিরাপত্তা দপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালাই। পরে পানি থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধান করা হয়।”
এর আগে ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব সম্পদ বিভাগের প্রথমবর্ষের দুই শিক্ষার্থী ঝর্ণায় পড়ে নিখোঁজ হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মৃত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে।
এ নিয়ে এ পর্যন্ত ঝর্ণাটিতে ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতে চলাচল ও অবস্থান নিষিদ্ধ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here