উয়েফা সুপার লিগে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রায় ১২টি ক্লাবের বিরুদ্ধে শাস্তি নেওয়ার পরিকল্পনা করে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।

শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও য়্যুভেন্তাস বাদে বাকি ক্লাবগুলো নাম সরিয়ে নেওয়ায় তারা এই শাস্তি এড়ায়। এরপর উয়েফার হুমকি থেকে যায় শুধু রিয়াল, বার্সা ও য়্যুভেন্তাসের জন্য। এবার সেই অভিযোগও উঠিয়ে নিল সংগঠনটি।


এক বিবৃতিতে উয়েফা জানিয়েছে, তারা রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও য়্যুভেন্তাসের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ উঠিয়ে নিয়েছে। তাদের ভাষায়, ‘সুপার লিগের জড়িত থাকার কারণে উয়েফার আইনি কাঠামোর সম্ভাব্য লঙ্ঘন রুখতে যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, উয়েফার আপিল বিভাগ সেটা বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে।’

এর আগে শাস্তি নেওয়ার বিষয়ে উয়েফা বলেছিল, সুপার লিগ থেকে যেই ক্লাবগুলো নাম সরাবে না তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে দেওয়া হবে না। এই বিবৃতির পর ইংল্যান্ডের বড় ছয় ক্লাব তাদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় টুর্নামেন্ট থেকে।

গত এপ্রিলে সুপার লিগে অংশগ্রহণ করতে সম্মত হওয়া ইউরোপের শীর্ষ ১২টি দল- রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, আর্সেনাল, চেলসি, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, টটেনহ্যাম, এসি মিলান, ইন্টার মিলান, ও জুভেন্তাস। এই পরিকল্পনার মূলে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। যিনি এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহেই কয়েকটি করে ম্যাচ আয়োজন করবে। যাতে করে ইউরোপের ফুটবলের আরও বিস্তৃতি বাড়বে।


এই পরিকল্পনার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন রিয়াল সভাপতি। অনেকে বলছিলেন, ফুটবলের সৌন্দর্য থাকইবে না যদি এই টুর্নামেন্ট সত্যিই বাস্তবায়িত হয়। আবার ছোট ছোট ক্লাবগুলো পড়বে বিপুল ক্ষতির মুখে, ক্ষেত্র বিশেষে তাদের অস্তিত্বই ধীরে ধীরে শঙ্কার মধ্যে নিপতিত হবে। কিন্তু পেরেজ বলেন, এর মাধ্যমে আধুনিক ফুটবলের সূচনা হবে। ক্লাবগুলোর আয় বাড়বে।

অবশ্য সমালোচনার পরও পেরেজ বলেছিলেন, কোনো না কোনো সময় তার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। এই পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কাজও করছেন। সত্যি সত্যি আবার পেরেজ এটি নিয়ে কাজ করলে উয়েফার প্রতিক্রিয়া কি হয় সেটা দেখায় বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here