মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও ব্যাপক আকারে টিকা উৎপাদন করতে সক্ষম বলে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ভাষণে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ধনী-গরীবের টিকার বৈষম্য বাড়ছে উল্লেখ করে বিশ্বসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিকার প্রযুক্তি হস্তান্তর সমতা নিশ্চিতের বড় উপায় হতে পারে।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে এ কথা বলেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান ও জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ধনী দেশগুলোর সমর্থন ও সহযোগিতাও চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বনেতাদের মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এখন যারা জ্যেষ্ঠ রয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ও অভিজ্ঞ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে ১৭ বার বিশ্বমঞ্চে বাংলায় ভাষণ দেন তিনি।

বিতর্ক পর্বের এই সেশনটি বাংলাদেশের জন্যও ছিল তাৎপর্যে ভরা। কেননা, মূল সভার এই সেশনটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা।

বিশ্বসভার সবচেয়ে বড় মঞ্চে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে দেশের উত্তরণের বিভিন্ন সূচক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। করোনা, রোহিঙ্গা সংকট আর জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির মধ্যেও কিভাবে উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ সে কথাও বলেন বাংলাদেশ সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোভিড ১৯ মহামারির প্রকোপ আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। সময়োচিত পদক্ষেপ ও আমাদের জনগণের বিরুপ পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতার কারণে ২০২০ সালেও আমরা পাঁচ শতাংশেরও বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড ১৯ টিকাকে বৈশ্বিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্ব নেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন। সে আবেদনে তেমন কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং আমরা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বাড়তে দেখেছি। সবার জন্য ন্যয়সংগত সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও ব্যাপক পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে বৈশ্বিক পরিস্থিতি। আফগানিস্তান ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখি। আফগানিস্তানের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করে যেতে বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।

বরাবরের মতো আবারও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জোর দাবি তোলেন দৃঢ়কণ্ঠে। তিনি জানান, রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারের, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারের হাতে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া, মহামারির চলমান সংকটে অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি অভিবাসীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিশ্চিত করতে হবে বলে জোর দাবি জানা শেখ হাসিনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here