বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করা হয়েছে জাতিসংঘে । দারিদ্র্য দূরীকরণ, বিশ্বের সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সর্বজনীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) তাকে দিয়েছে ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’। পেয়েছেন ‘মুকুট মণি’ উপাধিও। এবারের জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ পেয়েছে অনন্য সম্মাননা।

২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন নিয়ে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ভার্চুয়াল নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জেফ্রি স্যাক্স। 
 
তিনি বলেন,২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অগ্রগতিতে বিশ্বে প্রথম বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণ ঘটেছে।

 
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) গত ২০১৮ সালে ১৫ মার্চ এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।
 
এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ  এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা এ তিনটি সূচকের যে কোন দুটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ তিনটি সূচকের মানদণ্ডেই উন্নীত হয়েছে।
 
 বিশ্বব্যাংকের বিবেচনায় বাংলাদেশ ২০১৫ সালের জুলাইয়ে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়।এখন জাতিসংঘের মাপকাঠিতেও বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটল।
 
 জাতিসংঘ তার সদস্য দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত (এলডিসি), উন্নয়নশীল ও উন্নত—এই তিন পর্যায়ে বিবেচনা করে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল (ইকোসক)-এর মানদণ্ড অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশ হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হয় কমপক্ষে ১ হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার, জাতিসংঘের হিসাবে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ২৭৪ ডলার।
 
মানবসম্পদ সূচকে উন্নয়নশীল দেশ হতে ৬৪ পয়েন্টের প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশের আছে ৭২। অর্থনৈতিক ঝুঁকির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ২৫ দশমিক ২। বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে দারিদ্র্যের হার বিস্ময়করভাবে হ্রাস পেয়েছে। 
 
কমেছে অতি দারিদ্র্যের হার। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও বইতে শুরু করেছে পরিবর্তনের হাওয়া। প্রতিনিয়ত পালটে যাচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চেহারা। 
 
খাদ্য ঘাটতি থেকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, কৃষি, দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, তথ্য প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ, পোশাকশিল্প, ওষুধশিল্প, রপ্তানি আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক সূচকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে।
 
পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হচ্ছে। নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বকে চমকে দেবার মতো সাফল্য আছে বাংলাদেশের। 
 
এর মধ্যে শিক্ষা সুবিধা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার ও জন্মহার কমানো, গরিব মানুষের জন্য শৌচাগার ও স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম অন্যতম।
 
রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নেয়া হচ্ছে বিশেষ পদক্ষেপ।
 
ইউনেস্কোর তালিকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি, বিপুল সংখ্যক শরণার্থী রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় সহ ক্রিকেটের বিরাট সাফল্যে বিশ্বে বাংলাদেশ পেয়েছে।
 
বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে অব্যাহত উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে গত এক যুগে বদলে গেছে মানুষের জীবনমান। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র।মিলছে একের পর এক জাতিসংঘ তথা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুরস্কার।
 
একসময় দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলেছে।সে দিন বেশী দূরে নয় যেদিন বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা উড়বে বিশ্বের সব উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here