টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই ভারতীয় শিবিরে সাড়া ফেলে দেয় বিরাট কোহলির নেতৃত্ব ছাড়ার বিষয়টি। ১৬ সেপ্টেম্বর ভারত টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। শুধু তাই নয়, আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি নেন কোহলি। তবে এবার নতুন করে শোনা যাচ্ছে ওয়ানডের দায়িত্ব থেকেও সরে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন বর্তমান কোচ রবি শাস্ত্রী।

টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছাড়ার আগে এক টুইটে কোহলি বলেন, ‘আমার চাপের কথা ভেবে দেখলাম, তিন ফরম্যাটে খেলা আবার অধিনায়কত্ব, গত ৪-৫ বছর ধরে আমার জন্য একটু বেশি খাটুনি যাচ্ছে। সব সময়ই আমি দলকে সেরাটা দিয়ে এসেছি, দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন মনে হচ্ছে আমার একটু বিরতি দরকার। তাই বিশ্বকাপের পর থেকে টি-টোয়েন্টিতে আমি আর ভারতকে নেতৃত্ব দেব না। ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের সঙ্গে থাকব।’


মূলত ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ব্যাটিংয়ে আরও মনোযোগ দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোহলি। তবে শোনা যাচ্ছিল, শুধু টি-টোয়েন্টি নয়, ওয়ানডের অধিনায়কত্বও ছাড়বেন কোহলি। কিন্তু আপাতত সেটি হয়নি। বিশ্বকাপের পরেও ভারতের ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব করবেন তিনি।

তবে শোনা যাচ্ছে কোহলিকে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি দুই ফরমেটের অধিনায়কত্বই ছাড়তে বলেছিলেন ভারতের বর্তমান হেড কোচ রবি শাস্ত্রী। কিন্তু কোচের কথা পুরোপুরি রাখেননি কোহলি। তবে তার অধিনায়কত্ব ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল সেই ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতেই কোহলির সঙ্গে কথা বলেছিলেন শাস্ত্রী। তখনই তাকে সাদা বলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে কাজ হয়েছে অর্ধেক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‌’কোহলির অধিনায়কত্বের বিষয়ে কথা শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার সফরের পর থেকে। যখন নিয়মিত অধিনায়ককে ছাড়াই সেই সিরিজটি জিতেছিল ভারত। তখন থেকেই ইঙ্গিত ছিল ২০২৩ সালের আগেই হয়তো ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ছাড়বেন কোহলি।‌’

কোহলি এখন পর্যন্ত ৯৫টি ওয়ানডে ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যার মধ্যে ভারত ৬৫টি ম্যাচ জিতেছে। হেরেছে ২৭টি। কোহলির জয়ের শতকরা হার ৭০.৪৩। এ ছাড়া ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম ফরম্যাটে কোহলির অধিনায়কত্বে ভারত ৪৫টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছে। ভারত ২৭ বার জিতেছে ও ১৪ বার হেরেছে।

তবে হঠাৎ করে কোহলির সব ফরমেটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনাকে রহস্যজনক হিসেবেই দেখছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here