আফগানিস্তানে নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান। এ মন্ত্রণালয়কে নীতি-নৈতিকতা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বদল করার প্রক্রিয়া চলছে। এরইমধ্যে পরিবর্তন করা হয়েছে নামফলক।

 মন্ত্রণালয়ে অফিস করতে না পেরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করেছেন নারী কর্মচারীরা। এদিকে, জাতিসংঘের একটি সংস্থা বলেছে, আফগানিস্তানে মানবাধিকার ও নারী অধিকার নিয়ে তালেবানের সাথে আলোচনার সুযোগ এখনো আছে।

 
মুছে ফেলা হয়েছে আফগানিস্তানে নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নামফলক। নতুন ফলকে ফার্সি ও আরবি ভাষায় লেখা হয়েছে, প্রার্থনা, নির্দেশনা এবং পুণ্যের প্রচার ও পাপ ঠেকানো মন্ত্রণালয়ের নাম। 
 
এদিকে নিজ কর্মস্থলে এসে এই পরিবর্তন দেখে ক্ষুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের নারী কর্মীরা। মন্ত্রণালয়ের ঢুকতে না পেরে বাইরে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।নারী কর্মীরা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরেই অফিসে আসার চেষ্টা করছেন তারা। 

 
তবে প্রতিবারই তাদের বাড়ি ফিরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সবশেষ গেল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আর তারপর নামফলকের পরিবর্তনের মাধ্যমে কার্যত বাতিল করা হলো পুরো মন্ত্রণালয়টিকেই।
 
মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দেয়ায় নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত নারীরা। এসময় নারী মন্ত্রণালয়ের জায়গায় অন্য মন্ত্রণালয় না করার দাবি জানান তারা। 
 
নারীকর্মীরা বলেন, শুরু থেকেই নারী মন্ত্রণালয় কাজ করে আসছে। নতুন মন্ত্রণালয় করতে চাইলে অন্য কোথাও করা যেতে পারে। নারী মন্ত্রণালয়কে আফগান নারীদের মুখপাত্র হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
 
 
এদিকে আফগানিস্তানে ছেলে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল খুললেও মেয়ে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কিছু জানায়নি দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে বহু শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। 
 
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দিলেও ক্লাসে ছেলে-মেয়েদের আলাদা বসার আদেশ দিয়েছিলো অন্তর্বর্তী সরকার।জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে মানবাধিকার ও নারী অধিকার নিয়ে তালেবানের সাথে আলোচনার সুযোগ এখনো আছে। এসময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তালেবানের সাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি
 
ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেন, আফগানিস্তানের মানবাধিকার ও নারী অধিকার নিয়ে আমি তালেবান প্রশাসনের কয়েকজনের সাথে কথা বলেছি। তাদের সাথে আরও আলোচনার সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তবে আমি আশাবাদী। আফগান নাগরিকদের মানবিক বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
 
এদিকে স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ১৫টি সদস্যদেশ আফগানিস্তানে মিশন ইউএনএএমএ আরও ৬ মাসের জন্য অব্যাহত রাখার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
 
 প্রস্তাব অনুযায়ী, মিশনটি আফগানিস্তানে অব্যাহতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা সমন্বয় করা এবং নারী অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here