রাশিয়ায় শুরু হয়েছে ৪৫০ আসনের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে শুরু হয়ে ১১টি টাইমজোনে বিভক্ত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটগ্রহণ চলবে আগামী তিনদিন।

সকাল থেকেই পূর্বাঞ্চলীয় পেট্রোপাভলোভস্ক, কামচাটস্কিসহ বিভিন্ন শহরের ভোটকেন্দ্রগুলোতে আসতে শুরু করেন ভোটাররা। মস্কো ছাড়াও বেশ কয়েকটি এলাকায় এবার ইলেকট্রোনিক ভোটিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

এদিকে এর আগে নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদলকে ব্যাপক দমনপীড়নের অভিযোগ ওঠে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে। এমনকি নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয়নি ক্রেমলিনের সবচেয়ে কট্টোর সমালোচক অ্যালেক্সি নাভালনিকেও। অন্যদিকে জনপ্রিয়তা কমলেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ক্ষমতাসীন পুতিনের দল।

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অধীনে রাশিয়ায় মানবাধিকার হুমকিতে রয়েছে বলে মনে করেন দেশটির জনগণের একাংশ।

এদিকে সরকারের চাপের মুখেই দেশটিতে চলা পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিরোধী দল অংশ নিতে পারেননি বলে মনে করছেন তারা। সাম্প্রতিক সময়ে পুতিনের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ছে বলেও জানান তারা।

ক্রেমলিনের কট্টোর সমালোচক অ্যালেক্সেই নাভালনির মুক্তির দাবিতে কয়েকজন সমর্থক রাশিয়ার কালুগা অঞ্চলে বিক্ষোভ নিয়ে নেমেছিলেন। কিন্তু তাতে বাধা দেয় পুলিশ। বিরোধী দলের এই সমর্থকরা বলছেন, নাভালনির মুক্তির দাবি ছাড়াও দেশটিতে চলা রাজনৈতিক সংকট সমাধানেই তাদের এ প্রতিবাদ।

নাভালনির এক সমর্থক বলেন, রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি। কারণ আমরা সবকিছু দেখতে দেখতে ক্লান্ত। নাভালনিকে মুক্তি দিতে হবে। একই সাথে রাজনৈতিক সংকটও সমাধান করতে হবে।

রাশিয়ায় চলছে ৪৫০ আসনের পার্লামেন্ট বা স্টেট ড্যুমার নির্বাচন। আর এ নির্বাচনে নেই কোনো বিরোধী দল। অভিযোগ আছে ক্ষমতাসীন পুতিনের দল এই নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়নি নাভালনিকে। এদিকে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক দমনপীড়ন কিংবা নাভালনি ইস্যু নিয়ে পুতিনের জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়ছে বলে মনে করছেন দেশটির জনগণের একাংশ।

একই সাথে তারা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শাসনামলে তাদের মানবাধিকার হুমকিতে রয়েছে। শঙ্কায় রয়েছে দেশটির গণমাধ্যম কার্যক্রমও।

এক গণমাধ্যমকর্মী বলেন, নিঃসন্দেহে এখন রাশিয়ায় মানবাধিকার কার্যক্রম এবং স্বাধীন রাজনৈতিক কার্যক্রমে সরকারের হস্তক্ষেপ চলছে। এ বিষয়ে কথা বললে গণমাধ্যমেরও ঝুঁকি রয়েছে।

আরেক সংবাদকর্মী জানান, রাশিয়াতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে। এমনকি এখনই সবচেয়ে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে। যেভাবেই হোক পুতিন সরকারকে এটি সমাধান করতে হবে।

যদিও এমন অবস্থাতেও প্রেসিডেন্ট পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ের আশা করছে এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here