ছবিঃ Bdnews24

পরিপূর্ণ এক সমৃদ্ধি, বৈভবময় এক ইতিহাসের ধারাকে, বাঙালির মুক্তির প্রাণ ভোমরাকে পচাঁত্তরে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল ঘাতকরা।

কিন্তু ইতিহাসের প্রয়োজন কিংবা বাংলা নামক দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ন্তা হতে হয়তো, সুদূর পরভূম জার্মানিতে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলেন বাংলার দুঃখিনী দুই বোন।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় সে সময় প্রাণে বেঁচে যান। বড় বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে সে সময় বেলজিয়ামে ছিলেন শেখ রেহানা। ভাগ্যের এক নির্মম পরিহাসে তিনি তখন উদ্বাস্তু জীবনে। সব হারানোর শোক; তবুও পিতৃহত্যার বিচার চাইতে ভোলেননি তিনি।

১০ মে ১৯৭৯। সেদিন স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হয় সর্বইউরোপীয় এক সম্মেলন। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে শেখ রেহানা সর্বপ্রথম পঁচাত্তরের কলঙ্কজনক ও অমানবিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি তোলেন। সেদিন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিবসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির কাছে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচারের প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি।

শেখ রেহানা পরে লন্ডনে চলে যান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। আর শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। তার নেতৃত্বে চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

১৯৮৩ সালে সাপ্তাহিক চিত্রবাংলাকে সাক্ষাৎকার দেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘১৫ অগাস্ট আমি মরে গেলেই ভালো হত। বাবা নেই, মা নেই, ভাই নেই। আমার আর বাঁচতে ইচ্ছা করে না। আমি কী নিয়ে বাঁচব? কী আছে আমার? রাসেল কী অপরাধ করেছিল? ও তো রাজনীতি করত না। আমার মা তো রাজনীতি করত না। কেন ওরা তাদের হত্যা করল? খোদা তায়ালার কাছে বলছি, আমার মতো যেন কাউকে তিনি শাস্তি না দেন। আমি এতিম বড় অসহায়। আমি মেয়ে হিসেবে বাঙালি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার চাই।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘প্রথমে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। ফাঁসির মঞ্চ থেকে বঙ্গবন্ধু ফিরে এলেন, পাকিস্তানিরা তাকে মারল না। অথচ বাংলা-বাঙালির অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য যিনি জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করেছেন, সেই বাঙালির হাতেই তাকে প্রাণ দিতে হল! সবকিছু মনে হলো একটা কারবালা। আমরা এতিম হলাম।’

এরপর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঠিকই বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার হয়েছে। বাংলাদেশ চলছে আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ধারায়।

বড় বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানদের পড়ালেখার ব্যাপারে তার দৃঢ় অবস্থান অনেক সংকটের সমাধান করেছিল।

বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা জন্মেছিলেন ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫ সালে, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে। বাংলার দুঃখিনী বোন শেখ রেহানার জন্মদিন আজ।

শেখ রেহানার স্বামী ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তাদের তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লেবার পার্টির একজন এমপি। ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত এবং আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) ট্রাস্টি। ছোট মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী লন্ডনে ‘কন্ট্রোল রিস্কস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গ্লোবাল রিস্ক অ্যানালাইসিস সম্পাদক হিসেবে কর্মরত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here