আফগানিস্তান ইস্যুতে বৈঠকে বসছেন চীন, রাশিয়া, ইরানসহ অন্তত আট দেশের গোয়েন্দা প্রধানরা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই পুরো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে তালেবান।

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন গোষ্ঠীটির মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।

 
এদিকে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
 
তালেবানের কাবুল নিয়ন্ত্রণের সময় আফগানিস্তান ছাড়ার হিড়িক পড়ে। নিরাপত্তাহীনতায় দেশ ছাড়তে শুরু করে যে যার মতো করে। এখনো আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছেন অনেকে। এর মধ্যেও পাল্টাতে শুরু করে দৃশ্যপট। তালেবানের ক্ষমতা গ্রহণের পর যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল এখন ফিরতে শুরু করেছে নীড়ে। তবে সেই সংখ্যা হাতেগোনা।

তারা বলছেন, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় দেশে ফিরে আসছেন।
 
দেশে ফিরে আসা একজন বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। তাই আমরা সবাই দেশে ফিরে আসতে চাই। বাড়িঘর ঠিকঠাক করে আগের মতো ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করতে চাই।
 
আফগানরা দেশে ফেরার পাশাপাশি কাজের ছন্দ ফিরছে রাজধানী কাবুল। খুলছে দোকানপাট। বেচাকেনা আগের মতো জমে না উঠলেও পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিকে ফিরে আসবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাকস্বাধীনতা, চলাচল এবং নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় অনেকে।
 
স্থানীয়রা বলেন, আশরাফ ঘানি, এবং হামিদ কারজাইয়ের শাসন আমলে ব্যক্তি স্বাধীনতা ছিল। পরিস্থিতি ভালো ছিল। কিন্তু এখন তো তালেবানের শাসন শুরু হলো। জানি না পরিস্থিতি কেমন হবে। হয়তো বাকস্বাধীনতা শুরু করে সবকিছুই সংকুচিত হবে। আমাদের তারা যেন জনগণের হয়ে কাজ করেন। সবার অধিকার নিশ্চিত করেন।
 
এর মধ্যেই কাবুল দখলের প্রায় মাসের মাথায় পুরো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে তালেবান। শনিবার এক বিবৃতিতে তালেবানের মুখপাত্র বলেন, পুরো আফগানিস্তানের মাটি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়।
 
এ প্রসঙ্গে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তানের একটি কোণাও এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণেই বাইরে নেই। কিছু বিদ্রোহী চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা পারেনি। পালিয়ে গেছে। এখন পুরো দেশ শান্ত। নতুন সরকার গঠন হয়েছে। এখন দেশের উন্নয়নে কাজ শুরুর পালা।
 
এমন বাস্তবতায় আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসছে চীন, রাশিয়া, ইরানসহ অন্তত আট দেশের গোয়েন্দা প্রধানরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান ফয়েজ হামিদের উদ্যোগে চীন, রাশিয়া, ইরান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান ওই বৈঠকে অংশ নিতে পারে।
 
এদিকে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত হয়নি বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে কোনো বিষয়ে মার্কিন স্বার্থ থাকলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলে জানানো হয়।
 
আফগানিস্তান ছেড়ে আসার শেষ সময়ে সন্দেহভাজন আইএস সদস্যদের গাড়ি লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলা চালানোর কথা বলেছিলেন মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা। সেই হামলায় প্রাণ হারিয়েছিল সাত শিশুসহ ১০ জন। কিন্তু তাদের সেই হামলার লক্ষ্যবস্তু ঠিক ছিল না। নিহতরা কেউ আইএস সদস্য ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ ও ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’–এর অনুসন্ধানে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here