যশোরের প্রাপ্তবয়স্ক এক তরুণী উচ্চ আদালতের নির্দেশে নিজ জিম্মায় থাকার সুযোগ পেয়েছেন। যশোরের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল তাকে শেলটার হোমে রাখতে নির্দেশ দিলে তিনি এর বিরুদ্ধে নিজ জিম্মায় থাকতে চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। তার এই আপিল মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ওই তরুণীর বাবা বিদেশ থাকায় তার মা জোর করে বিয়ে দিতে চাইলে তিনি বিয়েতে করতে আপত্তি করেন। তাই তিনি বাসা ছেড়ে ঢাকা চলে আসেন। পরে নিরাপত্তা চেয়ে বনানী থানায় তিনি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অন্যদিকে, ওই তরুণীর মা গত ২৩ মে চার জনের বিরুদ্ধে যশোরের আদালতে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন। এরপর মেয়েটিকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করে যশোরের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তখন মেয়েটি জবানবন্দি দিয়ে নিজ জিম্মায় থাকার আবেদন করেন।

তবে তার মা নিজ জিম্মায় নিতে চান মেয়েকে। শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল মেয়েটিকে শেলটার হোমে রাখার আদেশ দেন। শেল্টার হোমে থেকে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে গত জুলাই মাসে হাইকোর্টে আপিল করেন মেয়েটি। পরে মেয়েটিকে যশোরের শেল্টার হোম থেকে ঢাকা নিয়ে আসা হয় এবং হাইকোর্ট গত ২ সেপ্টেম্বর মেয়েটির বক্তব্য শোনেন।

তরুণীটির মায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, তার মেয়েকে আসামিরা যে কোনো সময় দেশের বাইরে পাচার করে দিতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল নালিশি আবেদন তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পিবিআইকে নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে মেয়েটিকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। পরে মেয়েটিকে উদ্ধার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এরপর গত ২৩ জুন তরুণীটি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এসময় মেয়েটি নিজ হেফাজতে থাকার আবেদন করেন। একই দিন মেয়েকে নিজ জিম্মায় চেয়ে আবেদন করেন তার মাও। পরে ২৪ জুন ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে ও কল্যাণার্থে তরুণীটিকে নিজ জিম্মায় না দিয়ে শেলটার হোমে রাখাই ভালো বলে যুক্তিযুক্ত মর্মে ট্রাইব্যুনালের অভিমত। পরে মেয়েটিকে শেল্টার হোমে রাখা হয়।

হাইকোর্টে তরুণীটির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তাসমিয়াহ নুহিয়া আহমেদ। আদেশের পর তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর প্রায় আড়াই মাস ধরে মেয়েটি শেল্টার হোমে আছেন। হাইকোর্টের আদেশের ফলে এখন তিনি নিজ জিম্মায় থাকার সুযোগ পেলেন।

মামলার নথিপত্রে দেখা যায়, তরুণীটির জন্ম ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে। এছাড়াও চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি ঢাকার বনানী থানায় তার করা জিডি থেকে জানা গেছে, তরুণীটির মা সহ অন্যরা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। তরুণীটি বিয়েতে আপত্তি করেন। তাই গত ২০ জানুয়ারি ঢাকায় চলে আসেন। বনানীতে এক আত্মীয়ের বাসায় থাকাকালে তার মা সহ অন্যরা তাকে মোবাইলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here