মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আশুলিয়া থানার দুই মামলায় মাদকের পরিমাণ নিয়ে তথ্যে অসংগতি পাওয়ায় মামলা দুটির বাদী পুলিশের দুজন উপপরিদর্শককে (এসআই) একবছরের জন্য যে কোনো তদন্ত কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (০৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

দুই মামলায় পৃথক দুই আসামির জামিন আবেদনের শুনানিতে উদ্ধার করা মাদকের পরিমাণ নিয়ে তথ্যে অসংগতির বিষয়টি নজরে আসার পর  এ নির্দেশ এলো। একই সঙ্গে মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তাদের ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুই মামলার দুই আসামি হলেন শাহীন ও আলমগীর ভূঁইয়া।
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান  বলেন, শাহীনের মামলার এজাহারে মাদকের (হেরোইন) পরিমাণ ১০ গ্রাম উল্লেখ রয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) রাসায়নিক প্রতিবেদনে ৭১ দশমিক ২৫ গ্রাম মাদকের কথা রয়েছে। আর আলমগীরের মামলার এজাহারে মাদকের (হেরোইন) পরিমাণ ১১ গ্রাম উল্লেখ রয়েছে। সিআইডির রাসায়নিক প্রতিবেদনে ৮১ দশমিক শূন্য ৭ গ্রাম মাদকের কথা রয়েছে। বিষয়টি নজরে এলে হাইকোর্ট ওই আদেশ দেন।
শাহীনের বিরুদ্ধে মামলার বাদী হলেন আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিরাজ হোসেন। তিনি বর্তমানে শরীয়তপুরের সখীপুর থানায় কর্মরত। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কায়সার হামিদ।

আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলার বাদী হলেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজর আলী। তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল জলিল।
মাদকের পৃথক মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হন শাহীন ও আলমগীর। পরে তারা হাইকোর্টে জামিনের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করেন। এর শুনানিতে মাদক উদ্ধারের তথ্যে অসংগতির বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আসে। আদালত মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা জানাতে হাইকোর্টে হাজির হতে নির্দেশ দেন। তারা আদালতে হাজির হন। আদালত দুই আসামিকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন।
আদালতে শাহীনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. মতিউর রহমান। আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফারজানা ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ জুলাই শাহীনকে মাদকসহ আটক করা হয়। ওই দিনই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা হয়। এ মামলায় গত বছর ২০ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-২-এ বিচারাধীন।
গত বছরের ২১ জুলাই আলমগীরকে মাদকসহ আটক করা হয়। ওইদিন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা হয়। এ মামলায় গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here