করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মামলা জট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চলতি বছরে সুপ্রিম কোর্টের সেপ্টেম্বর মাসের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার (২৮ আগস্ট) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের মতামত নিয়ে ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

পরে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘২৮ আগস্ট ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় বিচারপতিরা সুপ্রিম কোর্টের ২০২১ সালের বর্ষপঞ্জির সেপ্টেম্বর মাসের পুর্বনির্ধারিত অবকাশকালীন ছুটি ভোগ না করে বিচারকার্য পরিচালনা করবেন মর্মে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এমতবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের ২০২১ সালের বর্ষপঞ্জির সেপ্টেম্বর মাসের পুর্বনির্ধারিত অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করা হলো।’

সেপ্টেম্বরের বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১২ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ ছিল।

এর আগে, গত ১৯ আগস্ট করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালতের জন্য প্রযোজ্য ২০২১ সালের বাকি সময়ের অবকাশকালীন ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল এবং পরবর্তী বছরগুলোতে ছুটি কমাতে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সম্পাদক মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এই আবেদন দিয়েছিলেন।

আবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালতের বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে আসছিল। দেশব্যাপী জারি করা লকডাউন শিথিল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ আগস্ট থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদালতগুলো পরিচালিত হচ্ছে। করোনাকালে দীর্ঘদিন সুপ্রিম কোর্ট বন্ধ থাকলেও সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বিশেষত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম বন্ধ ছিল না। ফলে লকডাউনেও বিচারপ্রার্থী জনগণ পুলিশি হয়রানি ও অনেকাংশে প্রশাসনিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। কিন্তু দেশব্যাপী আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিচারপ্রার্থীরা আইন-আদালতে আশ্রয় লাভের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন দেশব্যাপী আদালত বন্ধ থাকায়/সীমিত পরিসরে চালু থাকায় শুধু ন্যায়বিচারই লঙ্ঘিত হয়নি, অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অত্র সমিতি মনে করে, ২০২১ সালের বাকি সময়ের ক্যালেন্ডারভুক্ত সব অবকাশকালীন ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল এবং পরবর্তী বছরগুলোর ছুটি কমিয়ে এনে এ ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।

আবেদনে আরও বলা হয়, গত বছর করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সমিতি আবেদন করে। এ আবেদনে গত বছর ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় বছরের বাকি ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here