রেজিস্ট্রেশন জটিলতা আর জনবল ঘাটতির কারণেই আর নিবন্ধন ছাড়া টিকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এনআইডি দেখিয়ে টিকা দিলে তাদের আবার রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা জটিল বিষয়। তবে যারা রেজিস্ট্রেশন করার পর এখনও এসএমএস পাননি অধিদপ্তর বলছে, সবার টিকাই নিশ্চিত হবে। সিনোফার্মের পাশাপাশি দু-এক সপ্তাহের মধ্যে আবারও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে টিকায় আওতায় আনতেই গত ৭ আগস্ট থেকে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালু করে সরকার। সারা দেশে ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়ন, এক হাজার ৫৪টি পৌরসভা ও ৪৩৩টি সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডে এ টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়।
এদের সবার দ্বিতীয় ডোজ নিশ্চিত হলেও এরই মধ্যে এমন কার্যক্রম আর না করার কথা জানিয়েছে সরকার।
 
আর অধিদপ্তর বলছে, সরাসরি এনআইডি দেখিয়ে টিকা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তাদের আবার রেজিস্ট্রেশন আওতায় নিয়ে আসা একটি জটিল প্রক্রিয়া। আবার এই প্রক্রিয়া চালিয়ে গেলে স্বাভাবিক টিকা কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। তাই টিকা দেওয়া হবে নিবন্ধনের মাধ্যমেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রতিটি কার্ড আবার এন্টি করা লাগছে। আমাদের লোক প্রতিদিন সেই টিকার এন্ট্রি শেষ করবে নাকি দিনের টিকার এন্ট্রি দেবে? সে জন্য আমরা মনে করি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টিকা দেওয়াটা অব্যাহত রাখা যায়, তাহলে তথ্য-উপাত্ত যথাযথ সংগ্রহ করা যাবে।
তবে যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের সবাইকেই টিকার আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছে অধিদপ্তর। সেক্ষেত্রে যারা এখনো এসএমএস পাননি তাদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা। কিছুদিনের মধ্যেই প্রথম ডোজ হিসেবে আবারও অ্যাস্ট্রাজেনেরকার টিকা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে অধিক সংখ্যক মানুষ রেজিস্ট্রেশন করেছেন কিন্তু আমরা প্রতিদিনই স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং ভ্যাকসিনের গুণগতমান অক্ষুণ্ণ রেখে নিদির্ষ্ট মানুষকে প্রতিদিন আমরা টিকা দিতে পারি। অ্যাস্ট্রাজেনেরকার টিকার দ্বিতীয় ডোজের জন্য যারা অপেক্ষমাণ আছেন তাদেরটা আগে নিশ্চিত করা হবে। তার বাইরেও আমরা জাপানের কাছ থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেরকার টিকা পেয়েছি, সেটা এ মাসের শেষে অথবা সামনের মাসের শুরুতে মাঠপর্যায়ে দিয়ে দেওয়া হবে।  
সেপ্টেম্বরে আরো বিভিন্ন উৎস থেকে আরও এক কোটি টিকা আসার কথা রয়েছে বলেও অধিদপ্তরের পক্ষে জানানো হয়।
তবে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যু আগের চেয়ে কিছুটা নিম্নমুখী। বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পূর্ববতী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, মহামারি করোনার ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সারা বিশ্ব। করোনার নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টের কাছে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোও ধরাশায়ী। পৃথিবীজুড়ে টিকা কার্যক্রম চললেও থামছে না সংক্রমণ ও মৃত্যুহার।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় মারা গেছেন আরও ১১ হাজার ১৭৪ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লাখ ১৬ হাজার ৫৭০ জন। টানা কয়েক দিন বিশ্বব্যাপী মৃত্যু কমার পর মৃত্যু ও সংক্রমণের হার এখন ঊর্ধ্বমুখী।

এ নিয়ে বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৪৪ লাখ ৭৫ হাজার ৪২১ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ২১ কোটি ৪৬ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার ৪৮১ জন।

এর আগে বুধবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে মারা যান ১০ হাজার ৪২৪ জন এবং আক্রান্ত হন ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৪৭৭ জন। মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) মারা যান ৭ হাজার ৫৬৪ জন এবং আক্রান্ত হন ৫ লাখ ১১ হাজার ৪১১ জন। আর সোমবার (২৩ আগস্ট) মারা যান ৮ হাজার ২৬৪ জন এবং আক্রান্ত হন ৪ লাখ ৫১ হাজার ৫১০ জন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here