আফগানিস্তান থেকে এত দ্রুত সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অদক্ষতা হিসেবে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাইডেনের এ সিদ্ধান্তে ট্রাম্প হতভম্ব হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

রোববার (২২ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য অ্যালাবামার কালম্যান শহরে নিজ সমর্থকদের এক সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, আমি সত্যি হতভম্ব হয়েছি এ সিদ্ধান্ত দেখে। সম্ভবত এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এ জাতীয় কোনো বিষয়ে এত অদক্ষতার পরিচয় দেয়নি। এ ঘটনাকে সেনা প্রত্যাহার না বলে, তালেবানদের কাছে আত্মসমর্পণ বলা যায়।
ট্রাম্প আরও বলেন, আমরা চাইলে সসম্মানে আফগানিস্তান থেকে বিদায় নিতে পারতাম এবং সেটিই উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছে, তাতে আমরা সসম্মানে বিদায় নিয়েছি- তা বলার কোনো উপায় নেই।
২০০১ সালে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে হামলা চালিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দা নেটওয়ার্ক। সে সময় এই সংগঠনের মূল ঘাঁটি ছিল তালেবানশাসিত আফগানিস্তান। হামলার পর ওই বছরই দেশটিতে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী, পতন হয় তালেবান সরকারের।
২০ বছর পর ২০২১ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন এই যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন; ঘোষণা দেন চলতি বছর ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে, পরে এই সময়সীমাকে আরও এগিয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়।
সেই অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে আফগানিস্তান দখলের অভিযান শুরু করে তালেবান বাহিনী এবং মাত্র তিন মাসের মধ্যে দেশের ৩৪টি প্রদেশের ২৮টি নিজেদের দখলে নেওয়ার পর গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করে।
এদিকে কাবুল দখলের পর আফগানিস্তান পুনর্গঠনের জন্য তুরস্ককে পাশে দরকার বলে মন্তব্য করেছেন তালেবান মুখপাত্র সোহাইল শাহিন। তুরস্কের সরকারপন্থি দৈনিক ‘তুর্কিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
দৈনিক ‘তুর্কিয়া’কে সোহাইল শাহিন বলেন, আফগানিস্তানের সবকিছুই প্রায় তছনছ হয়ে গেছে। আমরা আমাদের দেশকে আবারও গড়ে তুলব। এ কাজে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তুরস্ককে। তুরস্কের সহযোগিতায় পারবে আমাদের সামনে দ্রুত এগিয়ে যেতে।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, তুরস্ক অবশ্যই তালেবান সরকারের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। মুসলিম বিশ্বে তাদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা আছে। তা ছাড়া তুরস্ক আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য একটি দেশ। মুসলিম দেশ হিসেবেও তারা বিশ্বে শক্তিশালী অবস্থানে আছে। তাই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের সঙ্গে তুলনা করলে চলবে না।
এর আগে কাবুল দখলের একদিন পর গত ১৬ আগস্ট তুরস্কের ক্ষমতাসীন সরকারের নিউজ চ্যানেল ‘তুর্ক খবর’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোহাইল শাহিন বলেছিলেন, তুরস্ক আমাদের কাছে একটি ভ্রাতৃপ্রতিম ইসলামি দেশ হিসেবে বিবেচিত। তুরস্কের সঙ্গে আমরা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করতে চাই।
এরপর তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ১৯ আগস্ট তালেবানের সঙ্গে সংলাপে বসার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, তিনি হয়তো অচিরেই তালেবান নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here