তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ২১ আগস্টের নৃশংস হামলার বিষয়ে অবগত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আর তার পুত্র তারেক রহমান সরাসরি জড়িত ছিলেন এ হামলার পরিকল্পনায়। এছাড়া জিয়াউর রহমান কয়েক হাজার সেনা সদস্যকে বিনা-বিচারে হত্যা করেছিল। তিনি এক রকম সিরিয়াল ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাসহ দলের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতেই ওই হামলা করা হয়েছিল।

 
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণ এবং আহতের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় হাছান মাহমুদ আরও বলেন, এ দেশে জিয়াউর রহমান খুনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন, আর বেগম জিয়া তা অব্যাহত রাখেন। খুন-হিংসার মতো দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি করে জামাত-বিএনপি। সুষ্ঠু ধারার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা সুসংহত করতে এদের রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি জানান, কারবালার যুদ্ধেও নারী শিশুদের হত্যা করা হয়নি। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে সেটাও করা হয়েছে। ২১ আগস্টের হামলাও ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা বলে মনে করেন তিনি। ওই ঘটনায় যে পরিবার অর্থাৎ জিয়া পরিবার লাভবান হয়েছিলেন ২১ আগস্টও সেই পরিবারই জড়িত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান কয়েক-হাজার সেনা সদস্যকে বিনা-বিচারে হত্যা করেছিল। তিনি একরকম সিরিয়াল কিলার ছিলেন।
আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিকী বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসের ২১ আগস্টের মতো নাশকতার ঘটনা বিরল। 
 
তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দ্রুত শেষ করতে না পারলে আবারও এমন ঘটনার পুনারবৃত্তি হতে পারে।
 
আলোচনা সভায় ২১ আগস্টের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে সাবেক সংসদ সদস্য শাহিদা তারেক দিপ্তী বলেন, এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। তার শ্রবণশক্তি এখনও পুরোপুরি ফিরেনি।
 
তিনি জানান, চোখের সামনে শত শত মানুষকে আহত-রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের আর্তনাদে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়। আইভি রহমানসহ ২৪ জনের মৃত্যু হয় সেদিন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীও সহায়তায় এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। আহতদের চিকিৎসায় দলের সভাপতি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
 
তিনি জানান, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বিএসএমএমইউতে ২১ আগস্টের হামলায় আহতদের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত থাকবে।
 
বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ২১ আগস্টের হামলায় শেখ হাসিনা বেঁচে না থাকলে আজকের বাংলাদেশ হতো না। যে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়নের রোল মডেল গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় পৌঁছেছে ২২৭০ ডলারে।
 
তিনি বলেন, বিএসএমএমইউ তে ২১ আগস্ট হামলায় আহতদের সব রকম সুবিধা আগামীতেও দেওয়া হবে। তিনি জানান ওই ধরনের ষড়যন্ত্র এখনও হচ্ছে, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা প্রতিহত করতে হবে।
 
তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের পর জিয়াউর রহমান খুনিদের বিচার রুখতে ইনডেমনিটি বিল করেছিলো, আর ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের হামলার পর বিএনপি জজমিয়া কাহিনী রচনা করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here