বাঘের থাবায় ক্যাঙ্গারু বধ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-১ এ ঐতিহাসিক সিরিজ জয় করে নেয় বাংলাদেশ। নিজ দেশের স্বপক্ষে এমন শিরোনাম আত্মতৃপ্তি দেয়। তবে সাময়িক সুখে গা ভাসানোর অভ্যাস নেই যাদের, তাদের কাছে সমালোচিত হয়েছে মিরপুরের উইকেট। এমন স্পিনিং ট্র্যাক বানিয়ে জিতলেও অক্টোবরের বিশ্বকাপের জন্য কতটা প্রস্তুত হচ্ছে টাইগাররা, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।

চলতি মাসে কিউইরাও খেলতে আসবে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তবে এবার আর এমন উইকেটের পক্ষে নন বিশ্লেষক থেকে সিনিয়র কেউই। কারণ এরপরই যে নামতে হবে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে। সেখানে আত্মবিশ্বাসের বেলুন ফুটো হয়ে গেলে অথৈ সাগরে পড়তে পারেন ক্রিকেটাররা।


অস্ট্রেলিয়া সিরিজে পাওয়া আত্মবিশ্বাস কাজে লাগলেও টাইগারদের স্কিল কোন পর্যায়ে আছে, তা যাচাই করতে নিউজিল্যান্ড সিরিজে স্পোর্টিং উইকেট গড়ার পরামর্শ দিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। তিনি বলেন, ‘এবার অন্তত সাহস দেখানো উচিত বাংলাদেশের, খেলা উচিত স্পোর্টিং উইকেটে।’

এদিকে, টার্নিং উইকেটে ব্যাটসম্যানরা দুর্দান্ত কিছু করতে না পারলেও, তাদের সামর্থ্যের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ঘরোয়া ক্রিকেটের সফলতম ব্যাটসম্যান তুষার ইমরান। আরব আমিরাতের কন্ডিশনেও মুস্তাফিজ-শরীফুলরা বাজিমাত করতে পারবেন, মনে করছেন সিনিয়র এই ক্রিকেটার।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে স্পোর্টিং উইকেটের পক্ষে থাকলেও টাইগার ব্যাটারদের পারফরম্যান্সে আশার আলো দেখছেন তুষার ইমরান। আরব-আমিরাতের কন্ডিশনে আস্থা মুস্তাফিজের কাটারেও। সঙ্গে সাইফুদ্দিন-শরীফুলরা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারলে বিশ্বকাপে ভালো করার সম্ভবনাও দেখছেন ঘরোয়া সার্কিটের সফলতম এই ক্রিকেটার।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে রান হয়েছে ওভারপ্রতি ৫.৮৫ করে। টি-টোয়েন্টিতে এর চেয়ে কম রানের সিরিজ দেখা গিয়েছিল ২০১২ সালে। কেনিয়া-আয়ারল্যান্ড সিরিজে রান হয়েছিল ওভারপ্রতি ৬.১১ করে। এই সিরিজে দুই দল মিলিয়ে পুরো সিরিজে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর ১৩১। এসেছে মাত্র দুই ফিফটি। ১২০ রানের পুঁজিকেই এখানে দেখিয়েছে বেশ বড়।  উইকেটের এমন অবস্থা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আগে কখনোই দেখা যায়নি। মিরপুর শেরে-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা হয়েছে এমন এক উইকেটে যেখানে ব্যাটসম্যান-বোলার কারো স্কিলই ঠিকভাবে যাচাই করা যায়নি।


আগামী ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে চলতি মাসের ২৪ তারিখ ঢাকায় নামবে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ সফরে নিউজিল্যান্ড খর্ব শক্তির স্কোয়াড পাঠালেও টাইগাররা নামবে পূর্ণশক্তির দল নিয়েই। দু-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত করা হবে খেলোয়াড়দের তালিকা। এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিয়ে ভাবনা এখনই নয়, কিউই সিরিজের পরই এ নিয়ে পরিকল্পনা সাজাতে চান নির্বাচকরা।

অজিদের বাংলা ধারাপাত শিক্ষার পরেও হুঁশ হয়নি কিউইদের। প্রতিপক্ষের জন্য বধ্যভূমি ওই মিরপুরে পাঠানো হচ্ছে এমন ১৫ জনকে—যাদের কেউই নেই আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিকল্পনায়। স্বাভাবিকভাবেই তাই প্রশ্ন উঠেছিল এই সিরিজের জন্য কি তবে টানা ক্রিকেটের মধ্যে থাকা সিনিয়র ক্রিকেটারদের রাখা হবে বিশ্রামে।

সে গুঞ্জনের ইতি টানেন প্রধান নির্বাচক। বিশ্বকাপের আগেই এটা যে টিম টাইগারদের শেষ সিরিজ। তাই নেই বিলাসিতার সুযোগ। পূর্ণশক্তির দল নিয়েই নিউজিল্যান্ডে বিপক্ষে মাঠে নামবে রিয়াদের দল। তবে কেউ ছুটি চাইলে সে সিদ্ধান্ত ঠেলে দিলেন বোর্ডের কোর্টে। নান্নু বলেন, আগামী দু-একদিনের মধ্যে দল প্রস্তুত করবো। খেলাটা যে দলের বিপক্ষেই হোক আমরা সেরা খেলাটাই খেলবো।‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here