চন্দনাইশ উপজেলার বরমা পশ্চিম কেশুয়া এলাকায় পুত্রের ছুরিকাঘাতে পিতার মৃত্যু হয়েছে। তার নাম কামাল উদ্দীন (৬৬)।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বরমা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড পশ্চিম কেশুয়ার ছুরুত আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, কামাল উদ্দীন (৬৬) ও তার ছেলে নাঈম উদ্দীন (২২) দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম শহরে ভ্যানগাড়িতে ফেরি করে সবজি বিক্রি করতো।
কিছুদিন আগে কামাল উদ্দীন চট্টগ্রাম শহর থেকে উপজেলার পশ্চিম কেশুয়াস্থ বাড়িতে আসেন।
ঘটনার দিন গত ৭ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে তার ছেলে নাঈম উদ্দীনও বাড়িতে আসে।
ওইদিন রাতে এশার নামাজ পড়তে নাঈম উদ্দীন বাড়ির পার্শ্ববর্তী মসজিদে যায়। আর বাড়িতে এশার নামাজ পড়ে কামাল উদ্দীন বাড়ির উঠানে হাঁটছিলেন।
এসময় ছেলে নাঈম উদ্দীন এশার নামাজ পড়ে রাত ৯টার দিকে বাড়িতে এসে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে ছুরি নিয়ে প্রথমে তার পিতা কামাল উদ্দীনকে গলা ধাক্কা দিয়ে বুকে ছুরিকাঘাত করে।
এসময় কামাল উদ্দীন প্রাণ বাঁচাতে সামনে দৌড় দিলে দ্বিতীয় দফায় পেটে ছুরিকাঘাত করে নাঈম।
এসময় কামাল উদ্দীনের আত্মচিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার দিন নাঈম উদ্দীন চট্টগ্রাম শহর থেকে এসে রাতে তার পিতা কামাল উদ্দীনকে ছুরিকাঘাত করে ছুরি হাতে নিয়েই দৌড় দেয়। এসময় এলাকার লোকজন তার পেছন পেছন ধাওয়া করে কেশুয়া রাস্তার মাথা এলাকায় তাকে আটক করে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে চন্দনাইশ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।”
তিনি আরো বলেন, “নাঈম উদ্দীন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানতে পেরেছি। ওষুধ খেলে সে স্বাভাবিক থাকে। তবে ঘটনার দিন সে কী কারণে তার পিতাকে ছুরিকাঘাত করেছে সে ব্যাপারে কিছুই জানা যায়নি।”
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেশব চক্রবর্ত্তী বলেন, “এ ঘটনায় থানায় কেউ এখনও অভিযোগ করেনি তবে আটককৃত নাঈম উদ্দীনকে জিজ্ঞাবাসাদ করা হচ্ছে এবং সে মানসিক ভারসাম্যহীন কি না তা যাচাই করে তদন্তপুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here