মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তৃতীয় ধাপে তাকে আদালতে তোলা হয়। এদিন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় দুই দফায় ছয় দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

পরীমনিকে আটকের চারদিনের মাথায় গত ৭ আগস্ট এ বিষয়ে অনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিল্পী সমিতি থেকে পরীমনির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়।


সমিতির নেতারা মনে করেন, পরীমনি সমিতির সংবিধান পরিপন্থী কাজ করেছেন। তার কার্যকলাপে সমিতির সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তবে পরীর পাশে রয়েছেন পরিচালকেরা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহীন সুমন ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই নায়িকার সমর্থনে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বলেছেন, পরীমণির জন্য ইন্ডাস্ট্রির দরজা খোলা রয়েছে।

সফল নির্মাতা শাহীন সুমন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে সোজাসাপ্টা বলি, পরীমণি ন্যায়বিচার পাক। নিজের ভুল-ত্রুটি এবং অতীত কর্মকাণ্ড সংশোধন, পরিমার্জন করে পরিশোধিত হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। ইন্ডাস্ট্রির দরজা তার জন্য খোলা রইল।’

শাহীন সুমনের এই বক্তব্যে সমর্থন দিয়েছেন ঢালিউডের আরও কয়েকজন পরিচালক। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ ভাই।’


‘কমন জেন্ডার’ খ্যাত পরিচালক ও পরিচালক সমিতির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নোমান রবিন লেখেন, ‘সমিতির একজন সদস্য হিসেবে আমি গর্বিত। সম্মানিত মহাসচিব হিসেবে আপনার এমন পরিষ্কার কথা, সোজাসাপ্টা অবস্থান, আমরা খুব পছন্দ হয়েছে।’

নির্মাতা মনিরুল ইসলাম সোহেল লেখেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্র আমার অহংকার। আমি চলচ্চিত্র পরিচালক। এটা আমার অহংকার। শিল্পী-কলাকুশলী আমাদের পরিবার। আমি পাশে আছি, আমি থাকব। ফাসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলব আমি পরিচালক। শিল্পী মানেই শিল্পী। অন্যায় হলে বিচার হবে। বাছ-বিচারের আগে বিচার যেন না হয়।’

জ্যেষ্ঠ পরিচালক শাহ আলম মন্ডল লেখেন, ‘ধন্যবাদ ভাই। কারণ সবাই ধান্দাবাজি করতে চায়, যারা পারে না তারা ওর বিরুদ্ধে।’

গত ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় অভিজান চালিয়ে পরীমনিকে আটক করে র‍্যাব। র‌্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক পাওয়া যায় তার বাসায়। এরপর থেকে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পরীমনি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মডেলিং দিয়ে। এরপর নাটকে অভিনয় শুরু করেন। তবে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগেই আলোচনায় আসেন বিতর্কিত এ অভিনেত্রী। চলচ্চিত্র নায়িকা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর প্রথম দিকেই ২৩টি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে রীতিমতো হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন পরীমনি।

২০১৫ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসা সীমাহীন’। স্বল্প ক্যারিয়ার জীবনে খুব বেশি ছবিতে অভিনয় করেননি পরীমনি, তবে বনানীতে ফ্ল্যাট ও কোটি টাকার বিলাশবহুল গাড়ির মালিকানা, পাঁচ তারকা হোটেলে জন্মদিন পালন ও বিভিন্ন সময়ে তার দেশের বাইরে ভ্রমণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বহুবার। কিন্তু এত সব কিছুর মালিকানার পেছনের আয়ের উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি তার। সাংবাদিক তামিম হাসানের সাথে ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পরীমনির বাগদান হয়। পরবর্তীতে তাদের এনগেজমেন্ট ভেঙে যায়। ২০২০ সালের ৯ মার্চ তিনি পরিচালক কামরুজ্জামান রনিকে তিন টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন, সেটাও টেকেনি। ওই বছরেই বিচ্ছেদ হয় তাদের। তবে এর আগেও গুঞ্জন উঠেছিল অভিনয়ে আসার আগেও নাকি বিয়ে করেছিলেন পরীমনি। ২০১২ সালে সৌরভ নামের একজনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। সে সময়ের কিছু ছবিও ভাইরাল হয়েছিল। তবে পরীমনি সব অস্বীকার করেন।

তবে সব কিছু ছাপিয়ে আবারো আলোচনায় আসেন ৯ জুন মধ্যরাতে সাভারে অবস্থিত ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে। এরপর প্রধান আসামি করে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ ও অমিসহ পাঁচজনের নামে মামলা করেন তিনি। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
এদিকে শুক্রবার (১৩ আগস্ট) পরীমনির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here