রাজধানীতে এডিস মশার ব্যাপক উপস্থিতির কারণে সামনের দিনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দায় সিটি করপোরেশন এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র।

চলতি বছর এডিসের দাপট শুরুর দিকে কম থাকলেও জুলাই মাসে ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। গেল মাসে শনাক্ত হওয়া মোট রোগীর সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি শনাক্ত হয় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে।

এতে নড়েচড়ে বসে দুই সিটি। মাঠ পর্যায়ে এডিসের লার্ভা ধ্বংসে চিরুনি অভিযান, ওষুধ ছিটানোর মত কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়। সবশেষ প্রতি শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে নিজ নিজ বাসা পরিষ্কার করার আহ্বান জানান উত্তর সিটির মেয়র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো মাঠ পর্যায়ে এডিস মশার যে ঘনত্ব তাতে যেকোনো সময় ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই ওয়ার্ড পর্যায়ে দ্রুত কমিটি করে কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
কীটতত্ত্ববীদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘এখনো আমরা মাঠ পর্যায়ে এডিস মশার যে ঘনত্ব পাচ্ছি সেটি ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য উপযোগী মাত্রা। সামনের দিনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এই মুহূর্তে প্রতিটি মহল্লাতে কমিটি করে তরুণ সমাজসেবকদেরকে যুক্ত করে সেই কমিটির সাথে সিটি কর্পোরেশনের মশকনিধন কর্মীদের সমন্বয়ে প্রতিটি মহল্লায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা উচিত।’
এদিকে শনিবার (৭ আগস্ট) সকালে নিজ অফিসে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন উত্তর সিটির মেয়র। পরে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, উত্তরের ৬৫ শতাংশ নির্মাণাধীন বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে এডিসের লার্ভা রয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দায় সিটি কর্পোরেশন এড়াতে পারে না।

অব্যবহৃত টায়ার, ফুলের টব, ডাবের খুলি ইত্যাদিতে পানি জমে থাকে এমন জিনিসপত্র সিটি কর্পোরেশনে জমা দিলে নগদ অর্থ দেয় হবে বলে জানান মেয়র।
সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০৪ জন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here