করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের লকডাউনের পঞ্চদশ দিনে ঢাকায় বাইরে বের হওয়ার অভিযোগে ২৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭৪ জনকে মোট ৯০ হাজার ৪১০ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ আগস্ট) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। বলা হয়েছে, এটি গত ১৫ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যক গ্রেপ্তার।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এদিন ২৯৫টি গাড়িকে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ট্রাফিক) অতিরিক্ত কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম।

এদিকে র‌্যাব জানিয়েছে, লকডাউন বাস্তবায়নে সারাদেশে ১৭৮টি টহল ও ১৭৩টি চেকপোস্ট পরিচালনা করেছে তারা। এছাড়া বিধিনিষেধ অমান্য করায় ৪০ জনকে ৩৯ হাজার ৪৩৫ টাকা জরিমানা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এদিকে, শুক্রবার (৬ আগস্ট) থেকে কঠোর বিধিনিষেধ বাড়ানো হলেও রাজধানীমুখী জনস্রোত থামছেই না। ঢাকা থেকে বের হতেও নেই সড়কে কড়াকড়ি। দূরপাল্লার পরিবহন ছাড়া চলছে সব ধরনের যানবাহন।

হাঁকডাক দিয়েই বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে যাত্রী ডাকছেন চালকরা। দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ তাই যাত্রীদের একমাত্র ভরসা মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত পরিবহন।

শুক্রবার ছুটির দিন হলেও ঢাকামুখী যাত্রীদের জনস্রোত ছিল। পায়ে হেঁটেই বিভিন্ন চেকপোস্ট দিয়ে ঢাকা প্রবেশ করেছেন সাধারণ মানুষ। একই সাথে ঢাকা ছাড়তেও দেখা গেছে।

ঢাকামুখী এক যাত্রী বলেন, ‘লকডাউন তো তেমন কঠোর মনে হচ্ছে না। জনগণ তো আসতেছে। তাহলে পরিবহন বন্ধ রেখে আর কী লাভ হলো। মানুষের দরকার হলে মানুষতো আসবেই।’

পরিবহন সংকটে দুর্ভোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি কিছু চালক গড়ে তুলেছেন পরিবহন সিন্ডিকেট। এতে কয়েকগুন বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।

ঢাকামুখী আরেক যাত্রী বলেন, ‘আমরা তো বিপদে পড়ে ঢাকাতে আসছি। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মাইক্রোবাসে ২০০ টাকার ভাড়া এক হাজার দিয়ে আসতে হয়।’

এদিকে সড়কে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছে, নিয়মিত মামলা করলেও দিনদিন বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি।

পুলিশের দারুসসালাম জোনে সার্জেন্ট হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গার্মেন্ট খোলা থাকাতে রাস্তাতে মালবাহী গাড়ির চলাচল রয়েছে। তবে হেঁটে চলাচল করা মানুষের সংখ্যাটা একটু বেশি। সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

গত ২৩ জুলাই শুরু হওয়া কঠোর বিধিনিষেধ তৃতীয় দফা বাড়িয়ে শেষ হচ্ছে আগামী ১০ আগস্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here