বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা বার্তায় বিরাট কোহলি নিজেই জানালেন, তার বিশ্বস্ত বন্ধু কে। কোনোরকম রাখঢাক না করেই ভারতীয় কাপ্তান সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ছবি পোস্ট করে ঘোষণা করেছেন, কে সেই ব্যক্তি।

টুইটারে বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা বার্তায় কোহলি প্রোটিয়া তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্স ও তার নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন। যেখানে এমআরএফ-এর স্টিকার লাগানো একটি ব্যাটও রয়েছে। এমআরএফ- এই তিনটি অক্ষরকে তিনি ব্যবহার করেন ‘মাই রিলায়েবল ফ্রেন্ড’ বা ‘আমার বিশ্বস্ত বন্ধু’ বোঝাতে। ক্যাপশনে কোহলি লেখেন, ‘হ্যাপি ফ্রেন্ডশিপ ডে, আমার বিশ্বস্ত বন্ধু এবি ডি ভিলিয়ার্স। ভারত অধিনায়ক টুইটটি ট্যাগও করেছেন ভিলিয়ার্সকে।
আইপিএলে সেই ২০১১ আসর থেকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে একসঙ্গে খেলে আসছেন দু’জন। দীর্ঘ পথচলায় ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে মাঠের বাইরেও। এবি ডি ভিলিয়ার্সও জানান, ক্রিকেটে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের একজন বিরাট কোহলি। ক্রিকেটের বাইরেও জীবনের সবকিছু নিয়ে নিয়মিত কথা হয় দু’জনের।
জিম্বাবুয়ের সাবেক পেসার ও এখনকার জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার পমি এমবাংওয়ার সঙ্গে আলাপচারিতায় ডি ভিলিয়ার্স বলেছেন কোহলির সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা। এমবাংওয়া জানতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটে তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুদের নিয়ে। ডি ভিলিয়ার্সের সবার আগে মনে পড়েছে কোহলিকেই।
তিনি বলেন, ‘ভারতে আইপিএলের কথা যদি বলতে হয়, ব্যাপারটি আসলে বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি কিছু। বিরাটের কথা অবশ্যই বলতে হবে- শুধু আইপিএলের সময় নয়, সারা বছরই আমাদের কথা হয়। তার মানে, এটি স্রেফ আইপিএল বা ক্রিকেটীয় সম্পর্কের চেয়েও বেশি কিছু।’

ডি ভিলিয়ার্স জানালেন, দু’জনের ঘনিষ্ঠতা আছে পারিবারিক পর্যায়েও। কোহলির স্ত্রী, বলিউড তারকা আনুশকা শর্মার সঙ্গেও কথা হয় নিয়মিত।
‘সে (কোহলি) স্রেফ একজন ক্রিকেটারের চেয়েও বেশি কিছু। আমার মনে হয়, বেশির ভাগ ক্রিকেটারই একটা পর্যায়ে উপলব্ধি করে যে, জীবনে ক্রিকেটের চেয়েও বেশি কিছু আছে। বিরাট সবসময়ই গভীরভাবে চিন্তা করতেন, অনেক কিছু নিয়েই তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তিনি নতুন কিছু চেষ্টা করে দেখতে পছন্দ করেন, হতে পারে তা জিম নিয়ে বা খাবার নিয়ে। জীবন নিয়ে, জীবনের পরের জগৎ নিয়ে সে অনেক ভাবেন, সামনে কী অপেক্ষায়, তা নিয়ে আমরা কথা বলি।’ যোগ করেন ভিলিয়ার্স।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কের গভীরতা অনেক। তার স্ত্রী আনুশকার সঙ্গেও অনেক কথা হয়, যা দারুণ। আমরা ছেলে-মেয়ে ও পরিবার নিয়ে কথা বলি। দারুণ এক বন্ধুত্ব এটি। ক্রিকেট নিয়ে কথা বলার পথও খুঁজে নিই আমরা, তবে শতকরা ৯০ ভাগ সময়ই অন্য কিছু নিয়ে কথা হয় আমাদের।’
নিজ দেশের কোনো ক্রিকেটারদের সঙ্গে তার ভালো বন্ধুত্ব, সেটিও জানালেন ডি ভিলিয়ার্স। বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকানদের কথা বললে, মর্নে মর্কেল, ফাফ ডু প্লেসি ও ডেল স্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ হয় নিয়মিত। ডেল ও আমার সম্পর্ক অনেক দিনের। সেই ছেলেবেলা থেকে, প্রাইমারি স্কুল থেকেই পরস্পরকে চিনি আমরা। জেপি ডুমিনির সঙ্গেও। সত্যি বলতে, সত্যিকারের কাছের বন্ধু বলতে যা বোঝায়, ক্রিকেটে তা হয় না। তবে যেটা হয়, দু-একজনের সঙ্গে বেশি মেলামেশা হয়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here