চট্টগ্রামকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের সহযোগিতায় একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। যা ১৯৯৯ সালের ৯ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে কার্যকর করে সরকার।

মাস্টারপ্ল্যানে নগরীর বাণিজ্যিক, আবাসিক ও সংরক্ষিত এলাকা সুনির্দিষ্ট করা হয়। যেখানে সিআরবি এলাকাকে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে। ঘোষণা করা হয়েছে ওপেন স্পেস হিসেবে। যা সুপরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণের কথাও বলা হয় ওই মহাপরিকল্পনায়। মাস্টারপ্ল্যানে ওই এলাকায় নতুন কোনো স্থাপনা তৈরির সুযোগ নেই বলে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।


এ বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, মাস্টারপ্ল্যানে ওই এলাকাকে সংরক্ষিত রাখতে বলা হয়েছে। সেখানে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।

এমন এলাকায় বাণিজ্যিক স্থাপনা, সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধ্বংস করবে বলে আশংকা নগরীর অভিভাবক সংস্থা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, রেলওয়ে যদি অন্য কোনোখানে জায়গা না দেয়, তবে সিটি করপোরেশনের কিছু জায়গা আছে। আমরা সেই জায়গা দিতে রাজি। তবুও  প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধ্বংস করে কোনো স্থাপনা হোক এটি আমরা চাই না।

বিপক্ষে অবস্থান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদেরও। চট্টগ্রামের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা কমিটির সমন্বয়ক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ওখানে হাসপাতাল হলে যে প্রাকৃতিক পরিবেশ রয়েছে সেটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
২০২০ সালে রেলওয়ের জায়গায় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি সই করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চুক্তি অনুযায়ী চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকায় ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও ১০০ আসন বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করবে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ।

এদিকে ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত ও নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা সিআরবিতে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগকে ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যায়িত করে বিবৃতি দিয়েছেন ১০১ নাগরিক।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঐতিহাসিক প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ, বন, পাহাড় ধ্বংস করে বন্দর নগরীর ফুসফুসখ্যাত চির সবুজ সিআরবিতে শুধু হাসপাতালই নয়, কোনো ধরনের স্থাপনা করা সমীচীন হবে না।

যারা বিবৃতি দিয়েছেন তারা হলেন- সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন, শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফি, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস প্রমুখ।

অন্যদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা, অধ্যাপক, আইনজীবী, চিকিৎসক, নাট্যজন, কবি, কথা সাহিত্যিক, সম্পাদক, সাংবাদিক, পরিবেশবাদী, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, উন্নয়ন কর্মী, নারীনেত্রী ও রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যারা বিবৃতি দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here