চলমান কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) আগামী ৫ আগস্টের পরে আরও ১০ দিন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কয়েকদিন আগেই কেবিনেট মিটিংয়ে এ সুপারিশ করা হয় বলে জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।


করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১ থেকে ৭ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে তা বাড়িয়ে ১৪ জুলাই করা হয়। ঈদুল আজহার কারণে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। পরে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘কঠোরতম বিধিনিষেধ’ জারি করে সরকার।

এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে লকডাউন শিথিল করায় এ সময় চালু করা হয় সব ধরনের গণপরিবহন। আর এরপরই নামে ঘরমুখী মানুষের ঢল। ঈদযাত্রায় স্বাস্থ্যবিধি চরমভাবে উপেক্ষিত হওয়ায় করোনা সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বাড়ার আশঙ্কা করেন বিশ্লেষকরা। হয়েছেও তাই।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ২৩ জুলাই (শুক্রবার) থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের লকডাউনের বিধিনিষেধ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন গত ১৩ জুলাই জারি করে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।

এদিকে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সারি প্রতিদিনিই দীর্ঘ হচ্ছে। মহামারির ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুরো বিশ্ব। করোনার নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টের কাছে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোও ধরাশায়ী। পৃথিবীজুড়ে টিকা কার্যক্রম চললেও থামছে না সংক্রমণের গতি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা ও সংক্রমণ বেড়েছে। এ সময় মারা গেছেন আরও ১০ হাজার ১৮৬ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৮৪ জন।

বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মৃত্যু ৪২ লাখ ১৩ হাজার ৮৭২ এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ১৩ হাজার ৮৭২ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ কোটি ৮৪ লাখ ৯১ হাজার ১৪৮ জন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here