গত কয়েক মাস ধরে কোভিড টিকা অ্যাস্ট্রাজেনেকার ঘাটতি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, একটি উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা ও টিকার উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি ভুগিয়েছে দেশকে। সংকটকালে আন্তর্জাতিক দেন-দরবারে অ্যাস্ট্রাজেনেকা নতুন করে শেখাবে বলেও মত তাদের।

এদিকে, ইপিআই’র মতো পরীক্ষিত প্লাটফর্ম ব্যবহার করে টিকাদান ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করার পরামর্শ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। বলছেন, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের মতো একটি উৎসের উপর নির্ভরশীলতা বাংলাদেশকে টিকাদান কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে দিয়েছে।

গত বছর প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার শর্তে ভারত থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি করে বাংলাদেশে। দুই চালানে পাওয়া ৭০ লাখ ডোজ প্রয়োগের মাঝামাঝিতে বন্ধ হয়ে যায় টিকার সরবরাহ। এখনো দ্বিতীয় ডোজ পাননি প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ মানুষ।

সরকার মরিয়া হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানের উদ্বৃত্ত থাকা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কেনার প্রস্তাব পাঠায়। কোন দেশ বিক্রিতে যেমন রাজি হয়নি, তেমনি দেয়নি দ্বিপাক্ষিকভাবেও।

সবশেষ, কোভ্যাক্সের মাধ্যমে জাপান থেকে শনিবার দেশে পৌঁছায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। আরো সাড়ে ২৭ লাখ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয় জাপান।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের মতো একটি উৎসের উপর নির্ভরশীলতা বাংলাদেশকে টিকাদান কর্মসূচি থেকে তিন মাস পিছিয়ে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আমরা প্রথমেই যে একটা সোর্স এর উপর নির্ভর করে ছিলাম, সেটা আমাদের জন্য ভুল হয়েছে। যার কারণে আমরা তিন মাস পিছিয়ে গেছি।

মহামারির মতো অস্বাভাবিক বিশ্ব ব্যবস্থায় অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার সংকটকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে কূটনৈতিকভাবে আরো সর্তকতার পরামর্শ দেন ইমতিয়াজ আহমেদ। বলেন, কাচামাল কোথা থেকে আসছে, কে উৎপাদন করছে, তাদের নিজের ক্ষমতা আছে কি না- এ বিষয়গুলো যদি শুরুতেই জানা থাকত, তাহলে হয়ত প্রথম থেকেই বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্ক করে এখন যেভাবে টিকা নিয়ে আসা হচ্ছে সেটা করতে পারতাম।

অ্যাস্ট্রাজেনেকাসহ সব ধরনের টিকার দ্রুত প্রয়োগে টিকাদান ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালীর পরামর্শ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। এজন্য ইপিআই’র মতো কাঠামোকে প্রয়োজনীয়ভাবে ব্যবহার করার উপর জোর দেন অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক।

এদিকে, টিকা নিয়ে সুখবর দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আগামী বছরের শুরুর মধ্যে অর্থাৎ আগামী পাঁচ-ছয় মাসে সব মিলিয়ে প্রায় ২১ কোটি ডোজ টিকা দেশে আসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের হাতে বর্তমানে এক কোটি ডোজের বেশি টিকা রয়েছে। আগামী মাসের মধ্যেই আরও দুই কোটি ডোজ টিকা দেশে চলে আসবে। এ ছাড়া, চীন থেকে তিন কোটি, রাশিয়া থেকে সাত কোটি, জনসন অ্যান্ড জনসনের সাত কোটি, অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটিসহ আগামী বছরের শুরুর মধ্যেই সরকারের হাতে প্রায় ২১ কোটি টিকা চলে আসবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসব টিকা পেলে দেশের প্রায় ৮০ ভাগ লোককে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here