আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এখনও অনেকে আরও একটা এক-এগারোর রঙিন স্বপ্নে বিভোর। তবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যারা এসব খোয়াব দেখছেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের সে স্বপ্ন সফল হতে দেবে না।

 

১৬ জুলাই শেখ হাসিনার কারাবরণ দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলের কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, করোনা সংকটকালে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোন রাজনৈতিক দল অসহায় জনগণের পাশে নেই। তিনি বলেন শেখ হাসিনা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে উন্নয়নের বিস্ময় হিসেবে তুলে ধরেছেন। বঙ্গবন্ধুর পর বাংলাদেশ এমন নেতৃত্ব আর পায়নি।
২০০৭ সালের ১৬ জুলার এই দিন ভোরে সেনাসমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদন থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের আগে শেখ হাসিনার নামে একাধিক মামলা দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ১৬ জুলাই শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, আমরাই বিএনপি-জামায়াত সরকারের নির্যাতনের এক পর্যায়ে চেয়েছিলাম সেনা সরকার ক্ষমতায় আসুক কিছুদিনের জন্য। সেনা সমর্থিত সরকার আসার পর আমরা আনন্দ মিছিলও করেছিলাম। কিন্তু পরে দেখলাম তাদের ভিন্নরূপ। তারা বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের হয়রানি করা শুরু করে। সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে (আমেরিকায়) যান, তখন তাকে বলেছিলাম আপনার ফেরায় বাধা আসতে পারে। তখন তিনি বলেছেন, আকাশ পথে যদি না আসতে দেয় পায়ে হেটে হলেও দেশে আসবো।
আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, আওয়াম লীগের শ্রদ্ধেয় অনেক নেতা, সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের ইন্ধন জুগিয়েছেন। তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে ষড়যন্ত্র করেছেন গোপনে। তিনি বলেন, তারা শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছেন। শেখ হাসিনার বিকল্প ভাবতে শুরু করেছিলেন। তারা নিজেদের জাতীয় নেতা দাবি করেন। তিনি বলেন দুর্দিনে সুবিধা খোঁজা এসব নেতাদের চিনতে হবে, জানতে হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, দলের  ভেতর ও বাহিরের ষড়যন্ত্রকারী, দেশ-বিদেশের ষড়যন্ত্রকারীরা শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আসুক সেটা তখন চায়নি। তারা দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর আওয়ামী লীগের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নিতে সব আয়োজন করে ফেলেছিল। এমন সময় সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসে। তারা কিংস পার্টি তৈরি করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টাও করেছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন পীড়ন চালাতে থাকে। তখন স্বেচ্ছাসেবক লীগ-যুবলীগের মতো ফ্রন্টলাইন শক্তিকে দমিয়ে রাখতে অগণতান্ত্রিক সে সরকার অপতৎপরতা চালায়। এক পর্যায়ে আমাদের নেত্রী জানান তোমরা (মির্জা আজম ও নানক)  আত্মগোপনে চলে যাও প্রয়োজনে ‘একশো হাত মাটির নিচে চলেও যাও তোমাদের ক্রস ফায়ার দেবে’।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ঘুমন্ত শহরে ভোরে শেখ হাসিনাকে আটক করে আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে দলের আইনজীবীরা থাকলেও নেত্রী নিজেই আদালতে যুক্তি তুলে ধরছিলেন। সেদিন সারা শহরের নেতা কর্মীরা আদলতে হাজির হন। এক রকম কোর্ট ঘেরাও করে রাখেন।
– Somoy

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here