রাশিয়া, ভারত ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) উজবেকিস্তানের তাসখন্দে পৃথক এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় ইস্যু ছাড়াও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি উঠে এসেছে।

 

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশে প্রবেশের পর এই প্রথমবারের মতো গত সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলমান ৪৭তম অধিবেশনে ‘হিউম্যান রাইটস সিচুয়েশন অব রোহিঙ্গা মুসলিম অ্যান্ড আদার মাইনোরিটিজ ইন মিয়ানমার’ প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

এ প্রস্তাবে সংহতি জানানোয় ধন্যবাদ দিয়ে এ কে আব্দুল মোমেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
এছাড়াও মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক মস্কো সফর ও অস্ত্র চুক্তির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
ভারতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হওয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে। মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন গুরুত্ব তুলে ধরেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও।
বৈঠকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জানান, উপহারস্বরূপ বাংলাদেশকে আরও এক মিলিয়ন চীনা ভ্যাকসিন দেবে দেশটি।
এছাড়া এ কে আব্দুল মোমেন উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও বিমানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে উঠে আসে তুলা রপ্তানি এবং ঢাকা-তাসখন্দের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগসহ বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়।
দুদিনব্যাপী আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্যে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োইয়েভের আয়োজনে ‘সেন্ট্রাল অ্যান্ড সাউথ এশিয়া: রিজিওনাল কানেক্টিভিটি-চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপারচুনিটি’ বিষয়ক সম্মেলনে প্রায় ৪০টি দেশের সরকার প্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনও যোগ দেন।
ঢাকা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘যোগাযোগ নেতা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পরিবহন, লজিস্টিকস, জ্বালানি-শক্তি, বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও মানবিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পারিক স্বার্থে কৌশল প্রণয়নে বহুমুখী আলোচনার জন্য একটি রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ প্লাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই উচ্চ-পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here