ইটস কামিং রোম। হ্যাঁ শেষপর্যন্ত ইউরো কাপ পৌঁছাল ইতালির রোমেই। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর নিজ দেশে ফিরেছে ইতালি ফুটবল দল। পৌঁছেই বিমানবন্দরে সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা পেল ইউরো চ্যাম্পিয়নরা।

 

ওয়েম্বলির মাটিতে ইতিহাস রচনা করা হয়নি ইংল্যান্ডের। তাদের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়ে শেষপর্যন্ত ইউরোর শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছে ইতালি। ১৯৬৮-র পর আবারও ইউরোর শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল আজ্জুরিরা। তাইতো ইতালিতে পৌঁছেই তাদের এমন বিরোচিত সংবর্ধনা। 

হ্যাঁ, ইংল্যান্ড সমর্থকরা এতদিন ইটস কামিং হোম বলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যে স্বপ্ন দেখছিল। তাতে পানি ঢেলে ইতালি ট্রফি নিয়ে গেল নিজেদের দেশেই। তাইতো ইতালি সমর্থকদের মুখে মুখে এখন একটাই বুলি। ইটস কামিং রোম। 

ট্রফি জয়ের পর চ্যাম্পিয়ন দল রোমের ফিউমিসিনো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কোচ মানচিনিসহ পুরো ইতালি দলকে সংবর্ধনা জানান সমর্থকরা। এসময় ভক্তদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠে চ্যাম্পিয়ন দল। 

বিমানবন্দর থেকে টিম বাস যোগে ইতালি দল পৌঁছে যায় রোমের হোটেল পার্কো দেই প্রিন্সসিপাইতে। এদিন ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেলা ও প্রধানমন্ত্রী মারিও দাগ্রির সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে কিয়েল্লিনিদের।
এবার ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ী হয়ে ফুটবলকে ঘরে ফেরাতে চেয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ওয়েম্বলির ষাট হাজার দর্শককে কাঁদিয়ে সেই কাপ চলে গেল রোমে। রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচটিতে টাইব্রেকারে হেরে স্বপ্ন চূর্ণ হয়ে যায় ইংলিশদের। 

রোববার দিনগত রাতে ইংল্যান্ড-ইতালির মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচে লুক শ’র শুরুর গোলের আনন্দ মাটি করে দিয়ে ইতালির জয়ের নায়ক বনে যাওয়া লিওনার্দো বোনুচ্চির জন্য দিনটা ক্যারিয়ার সেরা। জয়ের তৃষ্ণায় তেতে থাকা এই ডিফেন্ডার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে আনন্দে পান করে ফেলেন বেশ কয়েক বোতল পানীয়। ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলারদের আমুদে আচরণে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে। 

১৯৯২ সালে ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে দুর্দান্ত খেলে সাম্পদোরিয়াকে ফাইনালে তুলেছিলেন মানচিনি। কিন্তু অল্পের জন্য রোনাল্ড কোম্যানের গোলে শিরোপা জিতে নিয়েছিল বার্সেলোনা। ৩০ বছর পর আবারও সেই ওয়েম্বলিতে যান মানচিনি। তবে, ভূমিকা কোচের। মানচিনি এবার হেসেছেন। ইউরো জয়ের কাণ্ডারি ম্যান পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অকপটে স্বীকার করে নিলেন সে দিনের কথা। ইংল্যান্ডকে হারানোর পুরো কৃতিত্ব ছাত্রদেরই দেন মানচিনি। 

মানচিনি বলেন, ৩০ বছর আগে এখানে আমি কেঁদেছিলাম। সেদিনের কষ্ট আজও ভুলিনি। তবে, আজ যা পেয়েছি। তা সারা জীবনের জন্য সুখের স্মৃতি হয়ে থাকবে। এ অর্জন সম্ভব হয়েছে ফুটবলারদের জন্যই। ওরাই কঠিন এই কাজটা করেছে। এ জয় ইতালির ফুটবলকে সামনে আরও এগিয়ে নেবে। নতুনরা এ থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজে নেবে।
– Somoy

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here