বুধবার (৭ জুলাই) রাতে সেমিফাইনালে হারার একদিন পরই ডেনমার্কে ফিরেছেন ফুটবলাররা। বিমানবন্দরে নিজেদের হিরোদের বরণে দল বেঁধে আসেন ডেনমার্কের ফুটবল ফ্যানরা।

 

কোভিডের প্রকোপ উপেক্ষা করেই তারা এসেছিলেন সেখানে। ইউরোর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারলেও খেলা দিয়ে সবার মন জয় করে নিয়েছে স্মাইকেলরা। যে কারণে, ওয়েম্বলিতেও বিদায় বেলায় তাদের শুভেচ্ছায় ভাসিয়েছেন সমর্থকরা। 

পরাজিতরা চিরকালই এখানে উপেক্ষিত। এ পৃথিবীতে বিজয়ীরাই পুজোনীয়। কিন্তু চিরকাল তো আর ইতিহাস এক থাকে না।  

ফুটবল মাঠে আপনি কতটা ভালো খেললেন তা হয়তো ক্ষণিকের জন্য সান্ত্বনা হয়ে দেখা দেয় সমর্থকদের জন্য। কিংবা বিশ্লেষকরা মনে রাখেন বিতর্কের খাতিরে। কিন্তু দিন শেষে ভালো বা মন্দ খেলা নয় মানুষ মনে রাখে বিজয়ীদের। পরিসংখ্যানের খাতায় ভালো খেলে হার বলে কোনো জায়গা নেই, সেখানে আপনি হয় জিতেছেন না হয় হেরেছেন। 

তবে মাঝে মাঝে পরিসংখ্যান খুব ক্লিশে হয়ে যায় বাস্তবতার সামনে। যেখানে, ঘটনা প্রবাহই ঠিক করে দেয় কে নায়ক আর কে পার্শ্বচরিত্র। 

এবারের ইউরোতে ডেনমার্ক তেমনি এক দল। যারা হারার আগে মন জয় করেছে পুরো ফুটবল বিশ্বের। এরিকসেনের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো বিশ্ব মানবতাকে। পরে, তার ফিরে আসা শক্তি হয়ে দেখা দেয় ডেনিশদের সামনে। এরপর বাকিটা তো এক অনন্য ইতিহাস। 

সেমিতে হেরেছে তারা স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে। কিন্তু তাতেও মন ভাঙেনি ডেনিশ ফ্যানদের। তাই তো ওয়েম্বলি থেকে বিদায় বেলায় শুভেচ্ছায় শিক্ত করেছেন ব্রেইথওয়েট-ডলবার্গদের। বিদেশ–বিভূঁইয়ে সমর্থকদের এমন কাণ্ডে অবাক হয়েছেন ফুটবলাররা। 

কিন্তু তাদের জন্য তো তখন নিজ ভূমিতে অপেক্ষা করছিলেন হাজারো মানুষ। পতাকা আর জার্সির রঙে সেজেগুজে তারা। অপেক্ষায় ছিলেন হিরোদের বরণ করে নিতে। 

ফ্যানরা বলছেন, ‘আমরা খুবই গর্বিত। জয়-পরাজয় সবসময় সবকিছুর মানদণ্ড হতে পারে না। তারা আমাদের মন জয় করে নিয়েছে। খেলাতে হারাটা নতুন নয়। কিন্তু এবারের অনুভূতি একদম আলাদা। এরিকসেনের জন্য আমরা সবাই প্রার্থনা করেছিলাম। দলের সদস্যরা যেভাবে তার জন্য খেলেছে সেটা অসাধারণ। এমন কিছু মানুষকে অভিবাদন জানাতে পারাটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here