লকডাউন কেমন হচ্ছে তা দেখতে জন্যই মানুষ বের হচ্ছে বলে দাবি করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ।‌ ‌বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি আয়োজিত লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্রদের মাঝে খাবার ও নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।

 

পুলিশ প্রধান বলেন, ‘আমি জানি অনেকে বাসা থেকে রাস্তায় বের হয়ে বলেন, বাসায় ভালো লাগে না। বাসায় বিরক্ত লাগে বলে রাস্তায় বের হচ্ছেন। অনেকে আবার লকডাউন কেমন হচ্ছে তা দেখার জন্য বের হচ্ছেন। দয়া করে এই কাজগুলো করবেন না। আসেন দেশটাকে সবাই মিলে রক্ষা করি।’ 

সব সময় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখলেই মাস্ক পরিধান করাকে  এক ধরনের আত্মপ্রতারণা বলেও আখ্যা দেন পুলিশ মহাপরিদর্শক। 

যত্রতত্র ঘোরাঘুরি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘নিজেরা বিনা প্রয়োজনে রাস্তায় বের হব। আক্রান্ত হয়ে তারপর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে হামলা, অ্যাটাক বা দায়ী করব, এটা ঠিক না।’ 

লকডাউনের দুই সপ্তাহ খুব বেশি সময় নয় উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘দুই সপ্তাহের কারণে যদি আপনি ৫০ বছর বাঁচতে পারেন। তাহলে কেন দুই সপ্তাহ ধৈর্য ধরে বাসায় থাকবেন না বা স্বাস্থ্যবিধি মানবেন না?’ ঠুনকো অজুহাতে বের‌ হয়ে‌ সবাই জরুরি কাজের‌ অজুহাত দিচ্ছেন বলেও জানান পুলিশ প্রধান। 

এ দুর্যোগের দিনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের রাষ্ট্রীয় কর্তব্য, ধর্মীয় কর্তব্য জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘এ ধরনের কাজে যদি সহযোগিতা লাগে তাহলে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী আপনাদের সঙ্গে আছে। যদি আপনি সাহায্য করতে চান কিন্তু আপনার সাহায্য পৌঁছে দেয়ার ক্ষমতা না থাকে, আমাদের বলবেন। আমরা পৌঁছে দেব আপনার পক্ষ থেকে। আসুন আমরা হাতে হাত ধরে কাজ করি এবং এই দুর্যোগ অতিক্রম করি।’ 

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন- এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি ‌জসীম উদ্দিন আগামী সপ্তাহে এক কোটি মাস্ক বিতরণের ঘোষণা দেন। আর বাংলাদেশ দোকান‌ মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিনসহ ব্যবসায়ী নেতারা লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত ও হতদরিদ্রদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here