প্রতি বছরই বর্ষা এলেই পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে দেখা দেয় পাহাড়ধসের আশঙ্কা। গত কয়েক দিনের বর্ষণে এবার এ আশঙ্কা আরও বেড়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া না হলে ঘটতে পারে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা।

 

বান্দরবানের লামা, রোয়াংছড়ি, থানছি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা ও জেলা সদরসহ ৭টি উপজেলায় বসবাস করে প্রায় ৪ লাখ মানুষ। এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বাস করছে লক্ষাধিক মানুষ। 

শুধু পৌর এলাকার লাঙ্গি পাড়া, ইসলামপুর, কাশেম পাড়া, সিদ্দিক নগর, কালাঘাটা, বনরূপা পাড়া ও বালাঘাটা এলাকায় আছে এমন ১০ হাজার মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হলেও নানা কারণ দেখিয়ে যেতে চান না তারা। 

নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা আর ঝিরি-ঝরনা থেকে অবাধে পাথর উত্তোলনকে পাহাড়ধসের কারণ হিসেবে মনে করেন বান্দরবান মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম। 

সরকারি তথ্যমতে, গত এক দশকে বান্দরবানে বিভিন্ন সময় প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ধসে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। এরপরও বিভিন্ন স্থানে এখনো পাহাড় কেটে নতুন বসতি গড়ে তুলছে অনেকে। এটা বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি মনে করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বান্দরবান পৌর কাউন্সিলর অজিত কান্তি দাশ। 

তবে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা এড়াতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি। 

ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাসকারীদের স্থায়ী পুনর্বাসন করা গেলে মৃত্যু ও পাহাড়ধস দুটোই কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here